ব্যাংক খাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন’ অনুমোদন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ব্যাংক খাতের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই বৈঠকে ‘ভিসা নীতিমালা, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ারও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৬তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিলুপ্ত হচ্ছে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮ক ধারা
মন্ত্রিসভা সূত্রে জানা গেছে, তফসিলি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব কিংবা অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ যেকোনো ঝুঁকি দ্রুত মোকাবিলা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়েছিল।
পরে অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপন করা হলে তা বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করে।
ওই সুপারিশের ভিত্তিতে অধ্যাদেশের কিছু বিধান বিধিমালার মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য পৃথক করা হয়। পাশাপাশি সরকারের আর্থিক দায়, গ্রাহকদের স্বার্থ এবং ব্যাংকিং খাতের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনে নতুন ১৮ক ধারা যুক্ত করা হয়।
প্রচলিত রেজল্যুশন ব্যবস্থার পাশাপাশি বাজারভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থা চালু, সংকটে থাকা ব্যাংককে সচল রেখে পুনর্গঠন, মূলধন ও তারল্য সংকট মোকাবিলা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের আর্থিক সংশ্লেষ কমানোর লক্ষ্যেই ১৮ক ধারা যুক্ত করা হয়েছিল।
তবে ওই ধারার শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বিলুপ্ত করার জন্য ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
নতুন ভিসা নীতিমালায় ৩৪ ক্যাটাগরি
বিদেশিদের বাংলাদেশে প্রবেশ ও প্রস্থান আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা আকৃষ্ট করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করতে ‘ভিসা নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
নতুন নীতিমালার মাধ্যমে প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদ্যমান ভিসা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, নিরাপদ, গতিশীল ও সহজ করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ‘ভিসা নীতিমালা, ২০০৬’-এ ভিসার ৩৩টি ক্যাটাগরি থাকলেও নতুন নীতিমালায় তা বাড়িয়ে ৩৪টি করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে আগের সব ভিসা-সংক্রান্ত সার্কুলার বাতিল করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি সমন্বিত ভিসা কাঠামো তৈরি করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো সমন্বিতভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে।
নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে বাড়ছে ক্ষমতা
মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণে একটি কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ারও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রস্তাবিত আইনে একজন চেয়ারপার্সন ও চারজন কমিশনার নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিশনে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।
কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে বাছাই কমিটির সুপারিশে নৃ-গোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বাছাই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নাগরিক প্রতিনিধি এবং নৃ-গোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে কমিশনের কার্যপরিধি স্পষ্ট করার পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যকর তদন্ত এবং ভুক্তভোগীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বা সম্ভাব্য ক্ষতি রোধেও কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিতে পারবে।
জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু ও গুম প্রতিরোধে একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট গঠনের বিধানও প্রস্তাবিত আইনে রাখা হয়েছে।





















