ঢাকা ০২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে ডায়রিয়া-ডেঙ্গু রোগীও বাড়ছে, নিউমোনিয়ায় ৯ জনের মৃত্যু

শাহ জালাল, বরিশাল
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৬:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫ ২১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ওপরে থাকলেও এখনো বরিশালের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর আগমন বন্ধ হয়নি। বছরের প্রথম দুমাসে শীতকালীন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েও প্রায় সাড়ে ১০ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে।

এমনকি স্বাভাবিকের বেশী তাপমাত্রায়ও ডেঙ্গু নির্মূল হয়নি। প্রায় ৯ হাজার নারী-পুরষ ও শিশু ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি সহ ৬৪ জনের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে ২০২৪ সালের বিদায়ের পরে গত দুমাসে বরিশালের সরকারী হাসপাতালগুলোতে আরো প্রায় ৩শ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এখনো গড়ে প্রতিদিন অন্তত ১০ জন ডেঙ্গু রোগী সরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন থাকছে।

তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, মানুষ শরীরের অত্যন্ত নাজুক সময় ছাড়া সরকারী হাসপাতালের স্মরনাপন্ন হননা। ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত যে পরিমান রোগী সরকারী হাসপাতালসমুহে ভর্তি হচ্ছেন তার অন্তত তিনগুন বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও দাবি এসব চিকিৎসকদের। ফলে প্রকৃতপক্ষে কত মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান বের করা দুরূহ।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এসব রোগের বিস্তার উদ্বেগজনক। আর এসব রোগ থেকে উত্তরনের কোন কর্ম পরিকল্পনা সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে এখনো অনুপস্থিত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশালের পরিচালকের দপ্তর সূত্রের খবর, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগ নিয়ে প্রায় আড়াই হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু সরকারী হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জনের মৃতুর পরে চলতি বছরের প্রথম দু মাসে আরো প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ভর্তি হয়েছে। এসময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ জনের।

ফেব্রুয়ারীর শেষ দিনে নিউমোনিয়া নিয়ে ২১ দিন বয়সী শাহিনুর বেগমের মৃত্যু হয়েছে ভোলা জেলার লালমোহন হাসপাতালে।

এদিকে, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সরকারী হাসপাতালগুলোতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হবার পরে গত দু মাসে আরো সাড়ে ১০ হাজার যোগ হয়েছে। ফলে গত নভেম্বরে যে শীতকালীন ডায়রিয়ার সূচনা হয়েছিল, গত ৪ মাসে সরকারী হাসপাতালেই তার ভর্তির সংখ্যাটা ২১ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে গত বছরের মত চলতি বছরের প্রথম দুমাসেও ডায়রিয়া আক্রান্ত কোন রোগীর মৃত্যু হয়নি বলে দাবী বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের। বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার অনেক উন্নতির পরেও ডায়রিয়া প্রবন বরিশাল অঞ্চলে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব না হবার পেছনে এখন পথ খাবারের দোকানের নিম্নমানের মুখরোচক খাবারকে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। খোদ বরিশাল মহানগরীতে সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ও অননুমোদিত পথ খাবারের দোকানের সংখ্যাই কয়েক হাজার।

এসব দোকানের নি¤œমানের এবং বাসি ও মুখরোচক খাবার নগরবাসীর পেটের পীড়াকে ক্রমাগত বৃদ্ধি করে চললেও তা নিয়ে জনসচেতনতার অভাবের সাথে এসব খাবার বিক্রী বন্ধে নগর প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ শ্যমল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, ডায়রিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবিড় কার্যক্রমের কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি ডেঙ্গুর একমাত্র বাহন এডিস মশা নিধনেও তিনি সবগুলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু সহ যেকোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সরকারী হাসপাতাল সহ চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হবারও তাগিদ দিয়েছেন।

এদিকে, ডায়রিয়া চিকিৎসায় বরিশালে পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইন ছাড়াও বিপুল সংখ্যক এ্যন্টিবায়োটিক ক্যাপসুল ও মেট্রোনিডাজল টেবলেট সহ সব ধরনের চিকিৎসা সামগ্রীর মজুতের কথাও জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক। অনুমোদিত জনবলের অর্ধেকেরও বেশী চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকলেও ডায়রিয়া সহ যেকোন ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবী করেছেন বিভাগীয় পরিচালক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বরিশালে ডায়রিয়া-ডেঙ্গু রোগীও বাড়ছে, নিউমোনিয়ায় ৯ জনের মৃত্যু

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৬:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫

তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ওপরে থাকলেও এখনো বরিশালের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর আগমন বন্ধ হয়নি। বছরের প্রথম দুমাসে শীতকালীন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েও প্রায় সাড়ে ১০ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে।

এমনকি স্বাভাবিকের বেশী তাপমাত্রায়ও ডেঙ্গু নির্মূল হয়নি। প্রায় ৯ হাজার নারী-পুরষ ও শিশু ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি সহ ৬৪ জনের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে ২০২৪ সালের বিদায়ের পরে গত দুমাসে বরিশালের সরকারী হাসপাতালগুলোতে আরো প্রায় ৩শ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এখনো গড়ে প্রতিদিন অন্তত ১০ জন ডেঙ্গু রোগী সরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন থাকছে।

তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, মানুষ শরীরের অত্যন্ত নাজুক সময় ছাড়া সরকারী হাসপাতালের স্মরনাপন্ন হননা। ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত যে পরিমান রোগী সরকারী হাসপাতালসমুহে ভর্তি হচ্ছেন তার অন্তত তিনগুন বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও দাবি এসব চিকিৎসকদের। ফলে প্রকৃতপক্ষে কত মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান বের করা দুরূহ।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এসব রোগের বিস্তার উদ্বেগজনক। আর এসব রোগ থেকে উত্তরনের কোন কর্ম পরিকল্পনা সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে এখনো অনুপস্থিত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশালের পরিচালকের দপ্তর সূত্রের খবর, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগ নিয়ে প্রায় আড়াই হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু সরকারী হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জনের মৃতুর পরে চলতি বছরের প্রথম দু মাসে আরো প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ভর্তি হয়েছে। এসময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ জনের।

ফেব্রুয়ারীর শেষ দিনে নিউমোনিয়া নিয়ে ২১ দিন বয়সী শাহিনুর বেগমের মৃত্যু হয়েছে ভোলা জেলার লালমোহন হাসপাতালে।

এদিকে, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সরকারী হাসপাতালগুলোতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হবার পরে গত দু মাসে আরো সাড়ে ১০ হাজার যোগ হয়েছে। ফলে গত নভেম্বরে যে শীতকালীন ডায়রিয়ার সূচনা হয়েছিল, গত ৪ মাসে সরকারী হাসপাতালেই তার ভর্তির সংখ্যাটা ২১ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে গত বছরের মত চলতি বছরের প্রথম দুমাসেও ডায়রিয়া আক্রান্ত কোন রোগীর মৃত্যু হয়নি বলে দাবী বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের। বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার অনেক উন্নতির পরেও ডায়রিয়া প্রবন বরিশাল অঞ্চলে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব না হবার পেছনে এখন পথ খাবারের দোকানের নিম্নমানের মুখরোচক খাবারকে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। খোদ বরিশাল মহানগরীতে সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ও অননুমোদিত পথ খাবারের দোকানের সংখ্যাই কয়েক হাজার।

এসব দোকানের নি¤œমানের এবং বাসি ও মুখরোচক খাবার নগরবাসীর পেটের পীড়াকে ক্রমাগত বৃদ্ধি করে চললেও তা নিয়ে জনসচেতনতার অভাবের সাথে এসব খাবার বিক্রী বন্ধে নগর প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ শ্যমল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, ডায়রিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবিড় কার্যক্রমের কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি ডেঙ্গুর একমাত্র বাহন এডিস মশা নিধনেও তিনি সবগুলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু সহ যেকোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সরকারী হাসপাতাল সহ চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হবারও তাগিদ দিয়েছেন।

এদিকে, ডায়রিয়া চিকিৎসায় বরিশালে পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইন ছাড়াও বিপুল সংখ্যক এ্যন্টিবায়োটিক ক্যাপসুল ও মেট্রোনিডাজল টেবলেট সহ সব ধরনের চিকিৎসা সামগ্রীর মজুতের কথাও জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক। অনুমোদিত জনবলের অর্ধেকেরও বেশী চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকলেও ডায়রিয়া সহ যেকোন ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবী করেছেন বিভাগীয় পরিচালক।