দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু
৮৩০ পর্যটক নিয়ে ‘এমভি বার আউলিয়া’র যাত্রা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩০:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ৮৩০ জন পর্যটক নিয়ে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করে চলতি মৌসুমের প্রথম জাহাজ ‘এমভি বার আউলিয়া’। এর মধ্য দিয়ে দ্বীপটিতে নতুন পর্যটন মৌসুমের কার্যক্রম শুরু হলো।
এর আগে বুধবার রাত ১১টার দিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সম্মতি পাওয়ার পর জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর।
তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেলেও জেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত সম্মতি না থাকায় তৈরি হয় সংশয়। শেষ পর্যন্ত আগে থেকে টিকিট কেটে রাখা পর্যটকদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রথম দিনে একটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।
বর্তমানে কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীতে পর্যটক পরিবহণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে তিনটি জাহাজ—‘এমভি বার আউলিয়া’, ‘এমভি কর্ণফুলি’ ও ‘এমভি টেকনাফ’। যাত্রীসেবার মান বাড়াতে জাহাজগুলোর সংস্কার, সাজসজ্জা ও আসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনটি জাহাজের সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ায় ৮৫০, এমভি কর্ণফুলিতে ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফে ৭১৬ জন যাত্রী পরিবহণ করা যাবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি পেতে মোট নয়টি জাহাজ আবেদন করেছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নথি যাচাই-বাছাই শেষে আপাতত তিনটি জাহাজকে চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়টি জাহাজের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পাশাপাশি সেখানে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রত্যেক পর্যটককে দিতে হবে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি। এ ছাড়া দ্বীপ ভ্রমণে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পর্যটন কার্যক্রম চালু হলেও দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বহাল থাকছে কঠোর বিধিনিষেধ। নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও করা যাবে না।
এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালের ক্ষতি করা নিষিদ্ধ। সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ কোনো ধরনের যানবাহন চলাচলেরও অনুমতি নেই।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, আগে থেকে টিকিট কাটা পর্যটকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জাহাজটি সকাল ৭টায় নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
তিনি আরও জানান, পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পর্যটক পরিবহণ ও সেন্টমার্টিন ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।






















