ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

জয়পুরহাটে আলুর বাজারে ধস, বস্তাপ্রতি লোকসান ৬০০ টাকা

সুজন কুমার মন্ডল, জয়পুরহাট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হিমাগারে পড়ে আছে ৪৫ শতাংশ আলু, ১৫ নভেম্বর শেষ হচ্ছে সংরক্ষণের মেয়াদ; উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না কৃষক-ব্যবসায়ীরা, লোকসানের শঙ্কায় হিমাগার মালিকরাও

জয়পুরহাটে আলুর বাজারে দরপতন থামছে না। উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। ভালো দামের আশায় হিমাগারে সংরক্ষণ করেও মিলছে না প্রত্যাশিত লাভ। উল্টো বাজারমূল্য কম থাকায় হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না অনেকে। ফলে জেলার ২২টি হিমাগারে এখনো মজুত থাকা প্রায় ৪৫ শতাংশ আলু নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ১৫ নভেম্বর সংরক্ষণের মেয়াদ শেষ হলে বাড়তি খরচের বোঝা পড়বে হিমাগার মালিকদের ওপরও।

এ পরিস্থিতিতে আলুর দাম বাড়ানো, রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি এবং হিমাগারে সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। হিমাগার মালিকেরা সম্ভাব্য লোকসান এড়াতে জেলা কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তাও চেয়েছেন।

উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বিক্রি

দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী জেলা জয়পুরহাটে গত মৌসুমে ৯ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদন মৌসুমে দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েন কৃষকেরা। পরে ভালো দামের আশায় জেলার ২২টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয় ২ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন আলু। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও বাজারে দাম বাড়েনি।

সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরিসহ স্টেরিক, কার্ডিনাল, বারো-তেরোসহ বিভিন্ন জাতের ৬০ কেজির এক বস্তা আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৫০ টাকা। অথচ বর্তমানে হিমাগার গেটে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকায়। অর্থাৎ বস্তাপ্রতি লোকসান হচ্ছে প্রায় ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা।

দেশীয় পাকড়ি আলুর উৎপাদন খরচ আরও বেশি। প্রতি বস্তায় খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ টাকা। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০ টাকায়। এ ক্ষেত্রেও বস্তাপ্রতি লোকসান ৫৫০ টাকা।

অর্থাৎ আলু সংরক্ষণ করেও উৎপাদন খরচের কাছাকাছি দাম পাচ্ছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। অনেকের কাছে এখন প্রশ্ন, লোকসান মেনে আলু বিক্রি করবেন, নাকি আরও কিছুদিন দাম বাড়ার আশায় অপেক্ষা করবেন।

হিমাগারে আটকে ৪৫ শতাংশ আলু

মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনে ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তির ভিত্তিতে হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলু উত্তোলন না করলে হিমাগার মালিকেরা চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করতে পারেন না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অথচ এ সময়ে বিদ্যুৎ বিলসহ হিমাগারের পরিচালন ব্যয় বহন করতে হয় তাঁদেরই।

এবার ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত আলু সংরক্ষণের মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে আলু উত্তোলন না হলে বিদ্যুৎ বিল, ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে হিমাগার মালিকদের প্রতি বস্তায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হতে পারে।

হিমাদ্রি হিমাগারের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, তাঁর হিমাগার থেকে ৫০ শতাংশ আলু উত্তোলন করা হয়েছে। বাজারমূল্য খুব কম হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বাকি আলু নিচ্ছেন না। চুক্তির মেয়াদ পার হওয়ার পরও আলু পড়ে থাকলে লোকসানের বোঝা হিমাগার মালিকদের বহন করতে হবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষক-ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি তাঁরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সরকার আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ঋণ শোধের চিন্তায় দিশেহারা কৃষক

সদরের আমদই গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, দাম বাড়ার আশায় তিনি হিমাগারে ১৫০ বস্তা আলু রেখেছিলেন। এর মধ্যে ৫০ বস্তা কোনো লাভ ছাড়াই বিক্রি করেছেন। এখনো ১০০ বস্তা পড়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘এই বাজার অনুযায়ী আলু বিক্রি করলে আমার অর্ধেক লোকসান হবে। আমার যে ঋণ-দেনা ছিল, তা তো পরিশোধ হবেই না, আরও ক্ষতিগ্রস্ত হব। আলু নিয়ে কী করব, মাথাই কাজ করছে না।’

ক্ষেতলালের হিমাদ্রিপাড়ার কৃষক বাবু মিয়া ৫০ বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছেন। তাঁর আশঙ্কা, ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দাম না বাড়লে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাজারে আলু বিক্রি করলে অনেক লোকসান হবে। এই সময়ের মধ্যে আলুর দাম না বাড়লে কীভাবে বিক্রি করব? পরে যদি মেয়াদ না বাড়ানো হয়, তাহলে আমরা আলু কোথায় নিয়ে যাব? সরকারের কাছে অনুরোধ, হিমাগারের মেয়াদ ও আলুর দাম বাড়ানো হোক।’

লোকসানে জমি বিক্রি, বাড়িও বিক্রির শঙ্কা

আলুর ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন ঋণের চাপে। তিলাবদুল মধ্যপাড়ার ব্যবসায়ী আলাল হোসেন বলেন, এক বস্তা আলু কিনতে তাঁর খরচ হয়েছে ১ হাজার ২৫০ টাকা। অথচ এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৬৫০ টাকায়।

তিনি বলেন, ‘গত তিন-চার বছর ধরে লোকসান গুনতে গুনতে জমি-জমা সব শেষ। এখন যত ঋণ আছে, কীভাবে শোধ করব? ঋণ শোধ করতে বাড়িও বিক্রি করা লাগবে। সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলে আমি একেবারে শেষ।’

রপ্তানি ও সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি

বাজারে আলুর সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতা, দাম না বাড়া এবং হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু আটকে থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। দ্রুত আলুর দাম বাড়ানো এবং রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হিমাগার মালিকেরা। তাঁদের মতে, বিদেশে আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করা গেলে বাজারে অতিরিক্ত মজুতের চাপ কিছুটা কমতে পারে।

জেলা কৃষি বিপণন অফিস জানিয়েছে, হিমাগারে আলু সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে হিমাগারগুলোতে চিঠি দেওয়া হবে।

তবে মেয়াদ বাড়ানোই সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়। এতে আলু সংরক্ষণের সময় বাড়লেও বাজারে দাম নিশ্চিত হবে না; বরং বাড়তে পারে বিদ্যুৎ ও সংরক্ষণ ব্যয়। অন্যদিকে, রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে হলে সম্ভাব্য বাজার, মান নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ব্যয় ও রপ্তানিযোগ্য আলুর সরবরাহ—সবকিছু বিবেচনায় নিতে হবে।

জয়পুরহাটের আলুর বাজারে এখন তাই সংকট শুধু কম দামের নয়; উৎপাদন খরচ, ঋণের বোঝা, হিমাগারের ব্যয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা মিলিয়ে কৃষক-ব্যবসায়ী থেকে হিমাগার মালিক—সব পক্ষই ক্ষতির মুখে। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না এলে চলতি মৌসুমের লোকসানের প্রভাব পরবর্তী উৎপাদনেও পড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জয়পুরহাটে আলুর বাজারে ধস, বস্তাপ্রতি লোকসান ৬০০ টাকা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

হিমাগারে পড়ে আছে ৪৫ শতাংশ আলু, ১৫ নভেম্বর শেষ হচ্ছে সংরক্ষণের মেয়াদ; উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না কৃষক-ব্যবসায়ীরা, লোকসানের শঙ্কায় হিমাগার মালিকরাও

জয়পুরহাটে আলুর বাজারে দরপতন থামছে না। উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। ভালো দামের আশায় হিমাগারে সংরক্ষণ করেও মিলছে না প্রত্যাশিত লাভ। উল্টো বাজারমূল্য কম থাকায় হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না অনেকে। ফলে জেলার ২২টি হিমাগারে এখনো মজুত থাকা প্রায় ৪৫ শতাংশ আলু নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ১৫ নভেম্বর সংরক্ষণের মেয়াদ শেষ হলে বাড়তি খরচের বোঝা পড়বে হিমাগার মালিকদের ওপরও।

এ পরিস্থিতিতে আলুর দাম বাড়ানো, রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি এবং হিমাগারে সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। হিমাগার মালিকেরা সম্ভাব্য লোকসান এড়াতে জেলা কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তাও চেয়েছেন।

উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বিক্রি

দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী জেলা জয়পুরহাটে গত মৌসুমে ৯ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদন মৌসুমে দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েন কৃষকেরা। পরে ভালো দামের আশায় জেলার ২২টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয় ২ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন আলু। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও বাজারে দাম বাড়েনি।

সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরিসহ স্টেরিক, কার্ডিনাল, বারো-তেরোসহ বিভিন্ন জাতের ৬০ কেজির এক বস্তা আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৫০ টাকা। অথচ বর্তমানে হিমাগার গেটে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকায়। অর্থাৎ বস্তাপ্রতি লোকসান হচ্ছে প্রায় ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা।

দেশীয় পাকড়ি আলুর উৎপাদন খরচ আরও বেশি। প্রতি বস্তায় খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ টাকা। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০ টাকায়। এ ক্ষেত্রেও বস্তাপ্রতি লোকসান ৫৫০ টাকা।

অর্থাৎ আলু সংরক্ষণ করেও উৎপাদন খরচের কাছাকাছি দাম পাচ্ছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। অনেকের কাছে এখন প্রশ্ন, লোকসান মেনে আলু বিক্রি করবেন, নাকি আরও কিছুদিন দাম বাড়ার আশায় অপেক্ষা করবেন।

হিমাগারে আটকে ৪৫ শতাংশ আলু

মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনে ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তির ভিত্তিতে হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলু উত্তোলন না করলে হিমাগার মালিকেরা চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করতে পারেন না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অথচ এ সময়ে বিদ্যুৎ বিলসহ হিমাগারের পরিচালন ব্যয় বহন করতে হয় তাঁদেরই।

এবার ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত আলু সংরক্ষণের মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে আলু উত্তোলন না হলে বিদ্যুৎ বিল, ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে হিমাগার মালিকদের প্রতি বস্তায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হতে পারে।

হিমাদ্রি হিমাগারের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, তাঁর হিমাগার থেকে ৫০ শতাংশ আলু উত্তোলন করা হয়েছে। বাজারমূল্য খুব কম হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বাকি আলু নিচ্ছেন না। চুক্তির মেয়াদ পার হওয়ার পরও আলু পড়ে থাকলে লোকসানের বোঝা হিমাগার মালিকদের বহন করতে হবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষক-ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি তাঁরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সরকার আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ঋণ শোধের চিন্তায় দিশেহারা কৃষক

সদরের আমদই গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, দাম বাড়ার আশায় তিনি হিমাগারে ১৫০ বস্তা আলু রেখেছিলেন। এর মধ্যে ৫০ বস্তা কোনো লাভ ছাড়াই বিক্রি করেছেন। এখনো ১০০ বস্তা পড়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘এই বাজার অনুযায়ী আলু বিক্রি করলে আমার অর্ধেক লোকসান হবে। আমার যে ঋণ-দেনা ছিল, তা তো পরিশোধ হবেই না, আরও ক্ষতিগ্রস্ত হব। আলু নিয়ে কী করব, মাথাই কাজ করছে না।’

ক্ষেতলালের হিমাদ্রিপাড়ার কৃষক বাবু মিয়া ৫০ বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছেন। তাঁর আশঙ্কা, ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দাম না বাড়লে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাজারে আলু বিক্রি করলে অনেক লোকসান হবে। এই সময়ের মধ্যে আলুর দাম না বাড়লে কীভাবে বিক্রি করব? পরে যদি মেয়াদ না বাড়ানো হয়, তাহলে আমরা আলু কোথায় নিয়ে যাব? সরকারের কাছে অনুরোধ, হিমাগারের মেয়াদ ও আলুর দাম বাড়ানো হোক।’

লোকসানে জমি বিক্রি, বাড়িও বিক্রির শঙ্কা

আলুর ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন ঋণের চাপে। তিলাবদুল মধ্যপাড়ার ব্যবসায়ী আলাল হোসেন বলেন, এক বস্তা আলু কিনতে তাঁর খরচ হয়েছে ১ হাজার ২৫০ টাকা। অথচ এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৬৫০ টাকায়।

তিনি বলেন, ‘গত তিন-চার বছর ধরে লোকসান গুনতে গুনতে জমি-জমা সব শেষ। এখন যত ঋণ আছে, কীভাবে শোধ করব? ঋণ শোধ করতে বাড়িও বিক্রি করা লাগবে। সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলে আমি একেবারে শেষ।’

রপ্তানি ও সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি

বাজারে আলুর সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতা, দাম না বাড়া এবং হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু আটকে থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। দ্রুত আলুর দাম বাড়ানো এবং রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হিমাগার মালিকেরা। তাঁদের মতে, বিদেশে আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করা গেলে বাজারে অতিরিক্ত মজুতের চাপ কিছুটা কমতে পারে।

জেলা কৃষি বিপণন অফিস জানিয়েছে, হিমাগারে আলু সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে হিমাগারগুলোতে চিঠি দেওয়া হবে।

তবে মেয়াদ বাড়ানোই সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়। এতে আলু সংরক্ষণের সময় বাড়লেও বাজারে দাম নিশ্চিত হবে না; বরং বাড়তে পারে বিদ্যুৎ ও সংরক্ষণ ব্যয়। অন্যদিকে, রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে হলে সম্ভাব্য বাজার, মান নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ব্যয় ও রপ্তানিযোগ্য আলুর সরবরাহ—সবকিছু বিবেচনায় নিতে হবে।

জয়পুরহাটের আলুর বাজারে এখন তাই সংকট শুধু কম দামের নয়; উৎপাদন খরচ, ঋণের বোঝা, হিমাগারের ব্যয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা মিলিয়ে কৃষক-ব্যবসায়ী থেকে হিমাগার মালিক—সব পক্ষই ক্ষতির মুখে। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না এলে চলতি মৌসুমের লোকসানের প্রভাব পরবর্তী উৎপাদনেও পড়তে পারে।