ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস, বড় হচ্ছে বিমানের বহর এনআইডির তথ্য বিক্রির অভিযোগ, চার পুলিশ গ্রেপ্তার টাঙ্গাইলে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, ১,৩৫৭ মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার সত্য ও তথ্যনির্ভর সংবাদে গুরুত্ব দিতে হবে: টাঙ্গাইলের ডিসি কপ৩১ সামনে রেখে এশিয়া-প্যাসিফিক যুব জলবায়ু সম্মেলন শেষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে ষড়যন্ত্র করে দেশের ক্ষতি করা যাবে না: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দুর্গাপূজার ছুটি পাবেন না যারা, ১৭ অক্টোবর খোলা অফিস ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হবে না : প্রধানমন্ত্রী ব্যয় বাড়ছে, আয় কমছে; সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪ শতাংশ লক্ষ্মীপুরে মাদকসহ ‘ভুয়া সাংবাদিক’ রাজু গ্রেপ্তার

এনআইডির তথ্য বিক্রির অভিযোগ, চার পুলিশ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), লাস্ট কল লোকেশন, এসএমএস ও পাসপোর্টসহ নাগরিকদের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার বিভাগ চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন—ডেমরা থানার কনস্টেবল সাইমন হোসেন রাশেদ ও মাসুম মিয়া, ওয়ারী থানার কনস্টেবল নিজাম উদ্দীন এবং তুরাগ থানার কনস্টেবল মো. জিহাদ মিয়া।

বুধবার (৭ অক্টোবর) গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সিডিআরসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির অভিযোগে কয়েক দিন আগে ওই চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভুয়া জিডি-মামলার তথ্য দেখিয়ে সিডিআর সংগ্রহ?

ডিবির একটি সূত্রের দাবি, সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ভুয়া মামলা ও সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মোবাইল নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করতেন একটি চক্রের সদস্যরা।

তদন্তে উঠে এসেছে, এসব তথ্য সংগ্রহের পর সিডিআর, এনআইডি তথ্য ও লাস্ট কল লোকেশনসহ বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিক্রি করা হতো। এ ঘটনায় মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সিডিআর বিক্রি’

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্যের কাছে হস্তান্তর এবং নাগরিকের মোবাইল নম্বরের কললিস্ট, লাস্ট কল লোকেশন ও এনআইডিসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামে নজর

এজাহারে বলা হয়, ডিবির সাইবার মনিটরিংয়ের সময় গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমে ফেসবুকের একটি অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপের একটি অ্যাকাউন্ট এবং টেলিগ্রামের একটি গ্রুপে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের সিডিআর বিক্রির তথ্য নজরে আসে।

পরে অনুসন্ধানে সিডিআর বিক্রির অর্থ গ্রহণে ব্যবহৃত একটি বিকাশ নম্বরের তথ্যও পাওয়া যায়।

১১ নম্বরের সিডিআর চাওয়া হয়েছিল

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তুরাগ থানার সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ১১টি মোবাইল নম্বরের তিন মাসের সিডিআর ও এনআইডি তথ্য চাওয়া হয়েছিল।

এ জন্য তুরাগ থানার একটি জিডি নম্বর এবং একজন সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) নাম ব্যবহার করা হয়। তবে অনুসন্ধানে ওই জিডি নম্বরের কোনো জিডি থানায় নথিভুক্ত হয়নি বলে জানা যায়।

এমনকি যে এএসআইয়ের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, তিনিও ওই মোবাইল নম্বরগুলোর সিডিআর চাননি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলা ও তদন্ত

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আবিদুর রহমান গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করেন। মামলায় অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত করছে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এনআইডির তথ্য বিক্রির অভিযোগ, চার পুলিশ গ্রেপ্তার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), লাস্ট কল লোকেশন, এসএমএস ও পাসপোর্টসহ নাগরিকদের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার বিভাগ চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন—ডেমরা থানার কনস্টেবল সাইমন হোসেন রাশেদ ও মাসুম মিয়া, ওয়ারী থানার কনস্টেবল নিজাম উদ্দীন এবং তুরাগ থানার কনস্টেবল মো. জিহাদ মিয়া।

বুধবার (৭ অক্টোবর) গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সিডিআরসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির অভিযোগে কয়েক দিন আগে ওই চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভুয়া জিডি-মামলার তথ্য দেখিয়ে সিডিআর সংগ্রহ?

ডিবির একটি সূত্রের দাবি, সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ভুয়া মামলা ও সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মোবাইল নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করতেন একটি চক্রের সদস্যরা।

তদন্তে উঠে এসেছে, এসব তথ্য সংগ্রহের পর সিডিআর, এনআইডি তথ্য ও লাস্ট কল লোকেশনসহ বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিক্রি করা হতো। এ ঘটনায় মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সিডিআর বিক্রি’

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্যের কাছে হস্তান্তর এবং নাগরিকের মোবাইল নম্বরের কললিস্ট, লাস্ট কল লোকেশন ও এনআইডিসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামে নজর

এজাহারে বলা হয়, ডিবির সাইবার মনিটরিংয়ের সময় গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমে ফেসবুকের একটি অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপের একটি অ্যাকাউন্ট এবং টেলিগ্রামের একটি গ্রুপে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের সিডিআর বিক্রির তথ্য নজরে আসে।

পরে অনুসন্ধানে সিডিআর বিক্রির অর্থ গ্রহণে ব্যবহৃত একটি বিকাশ নম্বরের তথ্যও পাওয়া যায়।

১১ নম্বরের সিডিআর চাওয়া হয়েছিল

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তুরাগ থানার সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ১১টি মোবাইল নম্বরের তিন মাসের সিডিআর ও এনআইডি তথ্য চাওয়া হয়েছিল।

এ জন্য তুরাগ থানার একটি জিডি নম্বর এবং একজন সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) নাম ব্যবহার করা হয়। তবে অনুসন্ধানে ওই জিডি নম্বরের কোনো জিডি থানায় নথিভুক্ত হয়নি বলে জানা যায়।

এমনকি যে এএসআইয়ের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, তিনিও ওই মোবাইল নম্বরগুলোর সিডিআর চাননি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলা ও তদন্ত

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আবিদুর রহমান গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করেন। মামলায় অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত করছে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগ।