ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হবে না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা কিংবা সম্প্রদায়ের পরিচয় নয়—প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় মানুষের অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

চাওয়া হয়েছিল কম, বরাদ্দ মিলল বেশি

সভায় দুর্গাপূজা ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অনুদান বাড়ানোর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। বিশেষ বিবেচনায় সেটি বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের চাওয়া ছিল ২ কোটি টাকা। এখানেও এক কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পরে প্রধানমন্ত্রী দুই ট্রাস্টের প্রতিনিধিদের হাতে বরাদ্দের চেক তুলে দেন।

‘যৌক্তিক দাবি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে’

মতবিনিময় সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করা হবে। যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

এ সময় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোর জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে উৎসবের আনন্দ আরও বেড়েছে।

২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পাঁচ দিনের ছুটি

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বরাদ্দের অর্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

দুই সম্প্রদায়কে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য মিস সুবর্ণ ঠাকুর শিকদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হবে না : প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা কিংবা সম্প্রদায়ের পরিচয় নয়—প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় মানুষের অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

চাওয়া হয়েছিল কম, বরাদ্দ মিলল বেশি

সভায় দুর্গাপূজা ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অনুদান বাড়ানোর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। বিশেষ বিবেচনায় সেটি বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের চাওয়া ছিল ২ কোটি টাকা। এখানেও এক কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পরে প্রধানমন্ত্রী দুই ট্রাস্টের প্রতিনিধিদের হাতে বরাদ্দের চেক তুলে দেন।

‘যৌক্তিক দাবি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে’

মতবিনিময় সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করা হবে। যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

এ সময় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোর জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে উৎসবের আনন্দ আরও বেড়েছে।

২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পাঁচ দিনের ছুটি

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বরাদ্দের অর্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

দুই সম্প্রদায়কে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য মিস সুবর্ণ ঠাকুর শিকদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।