বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের নতুন বার্তা, সম্পর্কের কেন্দ্রে ‘জনগণ’
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে চায় ভারত। তবে সেই সম্পর্কের কেন্দ্রে থাকবে দুই দেশের জনগণ এবং পারস্পরিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি—নয়াদিল্লির সাম্প্রতিক বক্তব্যে এমন বার্তাই উঠে এসেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ অবস্থান জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
‘জনগণকেন্দ্রিক’ সম্পর্কেই জোর
জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পৃক্ততা বজায় রাখা। দুই দেশের পারস্পরিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির জন্য জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ককেই গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো পারস্পরিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির জন্য জনগণকেন্দ্রিক মনোযোগসহ ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পৃক্ততা রাখা। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের আলোচনার সময়ও আমরা এই লক্ষ্যেই মনোযোগী রয়েছি।’
একই বার্তা, বারবার
নয়াদিল্লির এই বক্তব্য নতুন নয়। এর আগেও গত ২২ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই ধরনের অবস্থানের কথা জানিয়েছিল। তখন জয়সওয়াল বলেছিলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী পথে এগিয়ে নিতে চায় ভারত।
একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসতেও ভারত প্রস্তুত বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
অর্থাৎ, অমীমাংসিত ইস্যু থাকলেও সেগুলোকে সম্পর্কের পথে স্থায়ী বাধা হিসেবে দেখতে চাইছে না নয়াদিল্লি। বরং সংলাপ ও বিদ্যমান কূটনৈতিক কাঠামোর মধ্যেই সমাধানের পথ খোঁজার ইঙ্গিত দিচ্ছে ভারত।
বাড়ছে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আসছে ভারত।
সেপ্টেম্বরের এক ব্রিফিংয়ে জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে দুই দেশের অভিন্ন সম্পর্ক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সামনে বড় ইস্যু পানি, সীমান্ত ও বাণিজ্য
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরিসর শুধু রাজনৈতিক যোগাযোগে সীমাবদ্ধ নয়। পানি, সীমান্ত, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা—দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
বিশেষ করে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চলতি বছরের জুনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, অভিন্ন নদীগুলো নিয়ে বিদ্যমান যৌথ নদী কমিশনসহ কাঠামোবদ্ধ দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার মধ্যেই আলোচনা চালানো হবে।
বার্তা কি সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের?
ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে তাই কূটনৈতিক মহলের নজর রয়েছে। কারণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একাধিক অমীমাংসিত ইস্যু থাকলেও নয়াদিল্লি প্রকাশ্যে বারবার ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্কের কথা বলছে।
আজকের বক্তব্যেও জয়সওয়ালের মূল বার্তা স্পষ্ট—বিতর্ক বা অমীমাংসিত বিষয় থাকলেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে সংলাপ, জনগণের স্বার্থ এবং গঠনমূলক সম্পৃক্ততাকেই গুরুত্ব দিতে চায় ভারত।






















