দুই মহাদেশে গাড়ি-বাড়ি-হোটেল, কত হাজার কোটি টাকার মালিক মেসি?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
গ্রাসিয়াস, মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছেন লিওনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে নীল-সাদা জার্সিতে শেষ ম্যাচেও করেছেন গোল, করিয়েছেন গোল। বিদায়ের মুহূর্তে সংবর্ধনা আর আবেগে ভেসেছেন কোটি ভক্ত।
শূন্য থেকে উঠে ফুটবল কিংবদন্তি হয়েছেন মেসি। দুই দশকের ক্যারিয়ারে রেকর্ড আর ট্রফির পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য। ফুটবল মাঠের বাইরে এখন তাঁর ব্যবসা, রিয়েল এস্টেট, হোটেল ও ক্লাব মালিকানাও আলোচনায়।
তাহলে কত টাকার মালিক লিওনেল মেসি?
সম্পত্তি ১.১ বিলিয়ন ডলার! ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, মেসির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার—ভারতীয় মুদ্রায় যা ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
এক সময় গ্রোথ হরমোনের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাই ছিল পরিবারের জন্য কঠিন। সেই মেসিই এখন বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদ।
ইন্টার মায়ামিতে খেলার পাশাপাশি ক্লাবটির মালিকানাতেও তাঁর অংশ রয়েছে। ফুটবলের বাইরে ব্র্যান্ড প্রচার, ব্যবসা ও রিয়েল এস্টেট থেকেও আসে বড় অঙ্কের আয়।

এক বছরেই আয় ১ হাজার ৩৫৫ কোটি
গত এক বছরে মেসির আয় প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। ক্লাব ও জাতীয় দলের আয় ছাড়াও এর বড় অংশ এসেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে।
সম্প্রতি পানীয় ব্যবসাতেও নাম লিখিয়েছেন তিনি। তাঁর ব্র্যান্ডের নাম ‘মাস+ বাই মেসি’। রয়েছে ‘মিম হোটেলস’ নামে হোটেল ব্যবসাও।
শুধু রিয়েল এস্টেট থেকেই তাঁর আয় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বার্সেলোনার বাড়ির দাম এখন ৬৭ কোটি
মেসির বিলাসবহুল সম্পত্তির তালিকায় অন্যতম আলোচিত স্পেনের কাস্টেলদেফেলসের বাড়ি।
২০০৯ সালে প্রায় ২০ লাখ ডলারে বাড়িটি কেনেন তিনি। বিশাল এই বাড়িতে রয়েছে জিম, স্পা, থিয়েটার, সুইমিং পুল, বড় টেরেস এবং ব্যক্তিগত ফুটবল মাঠ। পরে সেখানে নিজের সংগ্রহের জার্সি নিয়ে একটি জাদুঘরও তৈরি করেন মেসি।
বর্তমানে বাড়িটির মূল্য প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৭ কোটি টাকা।
ইবিজায় ১০৮ কোটি টাকার প্রাসাদ
২০২২ সালে স্পেনের ইবিজায় প্রায় ১১.১ মিলিয়ন ডলার দিয়ে একটি বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনেন মেসি। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১০৮ কোটি টাকা।
প্রায় ২০ হাজার বর্গফুটের এই সম্পত্তিতে রয়েছে তিনটি আলাদা প্রাসাদ। সঙ্গে থিয়েটার ও জিমসহ নানা বিলাসবহুল সুবিধা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতেও রয়েছে মেসির একাধিক সম্পত্তি। ২০১৯ সালে সমুদ্রতীরে প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রাসাদ কেনেন তিনি। এরপর ২০২১ ও ২০২৩ সালেও ফ্লোরিডায় সম্পত্তি কেনার খবর সামনে আসে।
জন্মশহর রোজারিওতেও ‘দ্য ফোর্ট্রেস’
আর্জেন্টিনার জন্মশহর রোজারিওতেও রয়েছে মেসির বিশাল পারিবারিক সম্পত্তি। ২০২২ সালে কেনা এই বাড়িটির নাম ‘দ্য ফোর্ট্রেস’।
বাড়িটিতে রয়েছে ২০ থেকে ২৫টি কক্ষ, সিনেমা হল ও জিম। নিচের গ্যারেজে একসঙ্গে প্রায় ১৫টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
গাড়ির সংগ্রহও কম নয়
মেসির গাড়ির গ্যারেজও যেন আলাদা এক প্রদর্শনী। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ, মাসেরাতি, রেঞ্জ রোভার ও অডিসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল গাড়ি।
সব মিলিয়ে তাঁর গাড়ির সংগ্রহের মূল্য প্রায় ৩০ লাখ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৯ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাঠের আয়, বিজ্ঞাপনেও বিপুল অর্থ
ক্লাব থেকে মেসির বার্ষিক আয় প্রায় ২৪০ কোটি টাকা। অ্যাডিডাসের সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি থেকেও বছরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্যারিয়ারে শুধু ব্র্যান্ড প্রচার থেকেই আয় করেছেন প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
২০১৬ সালে জাতীয় দলের জার্সি থেকে একবার অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। পরে ফিরে এসে জিতেছেন একের পর এক বড় ট্রফি। সেই সময় তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ পরবর্তী এক দশকে তাঁর সম্পদের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে।
অবসরের পর ফুটবলেই নতুন সাম্রাজ্য
অনেক কিংবদন্তি ফুটবলার অবসরের পর কোচিংয়ে যান। মেসির পথটা যেন একটু আলাদা।
খেলার পাশাপাশি ক্লাব মালিকানায়ও নিজের অবস্থান তৈরি করছেন তিনি। স্পেনে ইউই কর্নেয়া ও সিডি এলদেনসে-র মালিকানায় যুক্ত হয়েছেন। ইন্টার মায়ামিতেও রয়েছে তাঁর মালিকানা।
এর পাশাপাশি টেলিভিশন প্রযোজনা, মার্কেটিং, মিডিয়া ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের ব্যবসাও রয়েছে তাঁর।
ফুটবল মাঠে মেসির বিদায় যতটা আবেগের, মাঠের বাইরে তাঁর সাম্রাজ্যের গল্প ততটাই বিস্ময়কর। ফুটবলার মেসির অধ্যায় শেষের পথে—এবার কি আরও বড় হয়ে উঠবে ব্যবসায়ী মেসির সাম্রাজ্য?






















