৫টা ৫৮-তে ভ্যান থেকে নামলেন পিচ্চি রাজা, ৬টার মধ্যেই উধাও
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
তাঁতীবাজারে যানজটে আটকে প্রিজন ভ্যান। সময় ৫টা ৫৮ মিনিট। খুলে গেল পেছনের দরজা। বেরিয়ে এলেন তিনজন—একজন পিচ্চি রাজা, আরেকজন আসামি, সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা। এরপর মাত্র দুই মিনিট। ৬টার দিকে ভ্যানটি চলে গেল, কিন্তু ভেতরে নেই পিচ্চি রাজা। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে তার বেরিয়ে যাওয়ার সেই মুহূর্ত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পাওয়া একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও পুলিশের তদন্তে সামনে এসেছে পিচ্চি রাজার পালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ফুটেজে দেখা যায়, প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’। কয়েক কদম পেছনে লাল জামা পরা এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস। পুলিশের তদন্তে এখন প্রশ্ন—কেন তাকে প্রিজন ভ্যান থেকে নামানো হলো, আর এরপর কোথায় গেলেন তিনি?
ভ্যানের দরজা খুললেন এসআই
২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে ৩০ আসামিকে নিয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে যাচ্ছিল প্রিজন ভ্যানটি।
তাঁতীবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে যানজটে গতি কমতেই শুরু হয় পুরো ঘটনা।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, চালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে ভ্যানের পেছনের দরজা খুলে দেন এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস। এরপর ভেতরে ঢুকে পিচ্চি রাজা ও খাইরুল বাশারকে বাইরে নিয়ে আসেন তিনি।
সিসিটিভিতে দেখা যায়, সাদা জামা পরা খাইরুলও কিছুক্ষণ রাস্তায় হাঁটেন। পরে আবার ভ্যানে ফিরে চালকের পাশের আসনে বসে পড়েন।
পিচ্চি রাজা আর ফেরেননি।
পেছনে পুলিশ, সামনে অজানা গন্তব্য
ভ্যান থেকে নামার পর পিচ্চি রাজা হেঁটে সামনে এগিয়ে যান। তার ঠিক পেছনেই ছিলেন এসআই প্রবীর।
পুলিশের দাবি, কিছুক্ষণ পর দুজনই একটি প্রাইভেট কারে ওঠেন। গাড়িতে ওঠার দৃশ্য সিসিটিভিতে না থাকলেও তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জিএমপি।
এরপর ঠিক ৬টার দিকে পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীরকে ছাড়াই প্রিজন ভ্যানটি তাঁতীবাজার ছেড়ে যায়।
সময় মিলিয়ে দেখলে—৫টা ৫৮ মিনিটে ভ্যান থেকে বের হওয়া, আর দুই মিনিটের মধ্যেই পুলিশের হেফাজত থেকে উধাও।
পালানোর ছক নাকি সাজানো গল্প?
পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, পিচ্চি রাজাকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘটনার দুই দিন আগেই করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এতে প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, তাঁতীবাজারে পিচ্চি রাজাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে একটি অপেক্ষমাণ প্রাইভেট কারে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ঘটনা আড়াল করতে তৈরি করা হয় ভিন্ন গল্প।
শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় শৌচকর্মের কথা বলে ভ্যান থেকে নেমে পালিয়ে যান পিচ্চি রাজা। কিন্তু পরবর্তী তদন্তে সেই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি।
রিমান্ডে ৩, বরখাস্ত ৫ পুলিশ
ঘটনায় এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার গাজীপুরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার জানিয়েছেন, ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির চালক এবং পিচ্চি রাজার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ও রয়েছেন।
কোথায় পিচ্চি রাজা?
সিসিটিভিতে ভ্যান থেকে বের হওয়ার দৃশ্য মিলেছে, প্রাইভেট কারে ওঠার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। কিন্তু এরপর পিচ্চি রাজার গন্তব্য কোথায়—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তাকে ধরতে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এর আগে গত ১৯ মে নেপাল থেকে দেশে ফেরার পথে স্ত্রী ও শ্যালকসহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন পিচ্চি রাজা। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে ছিলেন।






















