ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস, বড় হচ্ছে বিমানের বহর এনআইডির তথ্য বিক্রির অভিযোগ, চার পুলিশ গ্রেপ্তার টাঙ্গাইলে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, ১,৩৫৭ মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার সত্য ও তথ্যনির্ভর সংবাদে গুরুত্ব দিতে হবে: টাঙ্গাইলের ডিসি কপ৩১ সামনে রেখে এশিয়া-প্যাসিফিক যুব জলবায়ু সম্মেলন শেষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে ষড়যন্ত্র করে দেশের ক্ষতি করা যাবে না: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দুর্গাপূজার ছুটি পাবেন না যারা, ১৭ অক্টোবর খোলা অফিস ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হবে না : প্রধানমন্ত্রী ব্যয় বাড়ছে, আয় কমছে; সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪ শতাংশ লক্ষ্মীপুরে মাদকসহ ‘ভুয়া সাংবাদিক’ রাজু গ্রেপ্তার

কপ৩১ সামনে রেখে এশিয়া-প্যাসিফিক যুব জলবায়ু সম্মেলন শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কপ৩১ সামনে রেখে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের সুপারিশ ও দাবি নিয়ে শেষ হয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ যুব জলবায়ু সম্মেলন ‘রিজিওনাল কনফারেন্স অব ইয়ুথ (আরসিওয়াই) এশিয়া-প্যাসিফিক ২০২৬’।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গাজীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারে চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন, টেকসই জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা, তরুণদের নেতৃত্ব এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলার বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২টি যুব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে আয়োজন করে সিক্ত বাংলাদেশ ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর)।

ইউএনএফসিসিসির যুব সংগঠন ইয়াঙ্গোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল—‘ফ্রম মাউন্টেন টু সি: ইউনাইটেড ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’।

সম্মেলনে ২৮টি দেশের ৫০০-এর বেশি তরুণ, জলবায়ু কর্মী, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

চার দিনের আয়োজনে প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা, কপের আদলে সিমুলেশন সেশন, নেটওয়ার্কিং ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। জলবায়ু অর্থায়ন, কর্মসংস্থান, জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।

সম্মেলনটি তরুণদের জন্য কপ৩১-এর প্রস্তুতির অনুশীলন মঞ্চ হিসেবেও কাজ করেছে। আলোচনার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান অংশগ্রহণকারীরা।

সম্মেলন শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা যৌথভাবে একটি ‘রিজিওনাল ইয়ুথ স্টেটমেন্ট’ তৈরি করেন। আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত কনফারেন্স অব ইয়ুথ ও কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস (কপ৩১)-এ এই যুব ঘোষণাপত্র তুলে ধরা হবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ইউএন উইংয়ের প্রধান এ কে এম সোহেল। তিনি জলবায়ু ও উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে, তার সঙ্গে তরুণদের স্বার্থ সরাসরি জড়িত। তাই এসব বিষয়ে তাদের মতামতের গুরুত্ব থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তরুণদের বক্তব্য তথ্য, উপাত্ত ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণনির্ভর হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের কমিউনিকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি প্রধান মিগুয়েল মাতেওস মুনোজ তরুণদের সম্মেলনে উপস্থিত হতে না পারা মানুষের কথাও তুলে ধরার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, কপ৩১-এ যুব ঘোষণাপত্র উপস্থাপনের সময় কারা এখনো আলোচনার বাইরে রয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে কোনো শিশুর কণ্ঠস্বর যেন উপেক্ষিত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের অ্যাডভাইজার ও প্রফেসর এমেরিটাস ড. আইনুন নিশাত তরুণদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, নীতিনির্ধারণের ভাষা বুঝতে হবে এবং তরুণদের যেকোনো দাবি বা উদ্যোগ তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে উপস্থাপন করতে হবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ। বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জলবায়ু সহযোগিতার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিথ্রিইআরের পরিচালক ড. মো. গোলাম রব্বানী।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন জলবায়ু কার্যক্রম, মানসম্মত শিক্ষা এবং অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের অঙ্গীকারকে আরও এগিয়ে নেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কপ৩১ সামনে রেখে এশিয়া-প্যাসিফিক যুব জলবায়ু সম্মেলন শেষ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

কপ৩১ সামনে রেখে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের সুপারিশ ও দাবি নিয়ে শেষ হয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ যুব জলবায়ু সম্মেলন ‘রিজিওনাল কনফারেন্স অব ইয়ুথ (আরসিওয়াই) এশিয়া-প্যাসিফিক ২০২৬’।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গাজীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারে চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন, টেকসই জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা, তরুণদের নেতৃত্ব এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলার বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২টি যুব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে আয়োজন করে সিক্ত বাংলাদেশ ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর)।

ইউএনএফসিসিসির যুব সংগঠন ইয়াঙ্গোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল—‘ফ্রম মাউন্টেন টু সি: ইউনাইটেড ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’।

সম্মেলনে ২৮টি দেশের ৫০০-এর বেশি তরুণ, জলবায়ু কর্মী, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

চার দিনের আয়োজনে প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা, কপের আদলে সিমুলেশন সেশন, নেটওয়ার্কিং ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। জলবায়ু অর্থায়ন, কর্মসংস্থান, জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।

সম্মেলনটি তরুণদের জন্য কপ৩১-এর প্রস্তুতির অনুশীলন মঞ্চ হিসেবেও কাজ করেছে। আলোচনার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান অংশগ্রহণকারীরা।

সম্মেলন শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা যৌথভাবে একটি ‘রিজিওনাল ইয়ুথ স্টেটমেন্ট’ তৈরি করেন। আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত কনফারেন্স অব ইয়ুথ ও কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস (কপ৩১)-এ এই যুব ঘোষণাপত্র তুলে ধরা হবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ইউএন উইংয়ের প্রধান এ কে এম সোহেল। তিনি জলবায়ু ও উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে, তার সঙ্গে তরুণদের স্বার্থ সরাসরি জড়িত। তাই এসব বিষয়ে তাদের মতামতের গুরুত্ব থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তরুণদের বক্তব্য তথ্য, উপাত্ত ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণনির্ভর হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের কমিউনিকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি প্রধান মিগুয়েল মাতেওস মুনোজ তরুণদের সম্মেলনে উপস্থিত হতে না পারা মানুষের কথাও তুলে ধরার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, কপ৩১-এ যুব ঘোষণাপত্র উপস্থাপনের সময় কারা এখনো আলোচনার বাইরে রয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে কোনো শিশুর কণ্ঠস্বর যেন উপেক্ষিত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের অ্যাডভাইজার ও প্রফেসর এমেরিটাস ড. আইনুন নিশাত তরুণদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, নীতিনির্ধারণের ভাষা বুঝতে হবে এবং তরুণদের যেকোনো দাবি বা উদ্যোগ তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে উপস্থাপন করতে হবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ। বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জলবায়ু সহযোগিতার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিথ্রিইআরের পরিচালক ড. মো. গোলাম রব্বানী।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন জলবায়ু কার্যক্রম, মানসম্মত শিক্ষা এবং অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের অঙ্গীকারকে আরও এগিয়ে নেয়।