ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিবগঞ্জে ভুটভুটি উল্টে বাবা-ছেলে নিহত, আহত ৭ সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে চাঁদা দাবি, মৌলভীবাজারে দুই যুবক গ্রেফতার পুরোনো টার্মিনাল, নতুন চাপ; ফিটনেসবিহীন বাসে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এশীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পদে তামিম! রাণীশংকৈলে নারী ও কন্যাশিশুর সুরক্ষায় সৃজনশীল প্রতিযোগিতা জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন হাদির নামফলক সরিয়ে আগের নামেই ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে খরচ বাড়ছে প্রায় ১২ টাকা ডেঙ্গুর দাপট কমছেই না, ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু এমপি গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিবারের আপস, প্রথম স্ত্রীর জামিন

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে দগ্ধ, স্বামী-শ্বশুর পলাতক

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


জয়পুরহাটে যৌতুকের দাবিতে সাবেকুন নাহার (২৫) নামে এক গৃহবধূর শরীরে গরম পানি বা দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় গত পাঁচ দিন ধরে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেকুন নাহার জানান, তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলার কাদোয়া কয়রাপাড়া গ্রামের মোশাররফ হোসেনের মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে পাঁচবিবি উপজেলার খাসবাট্টা তৈফিকপাড়া গ্রামের আলেফ উদ্দীনের ছেলে সাজু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সাড়ে তিন মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

সাবেকুনের দাবি, বিয়ের সময় তার পরিবার আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দেয়। সম্প্রতি স্বামী সাজু মিয়া আরও টাকা দাবি করে আসছিলেন। তার বাবা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় অতিরিক্ত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এর জের ধরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তার শরীরে গরম পানি বা কোনো ক্ষতিকর দাহ্য পদার্থ ছুড়ে মারা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাবেকুনের স্বামী ও শ্বশুর তার শরীরে গরম পানি বা দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করেন। মেয়ের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তিনি জানান, মেয়ের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নত হলে থানায় মামলা করবেন।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুর্শিদা পারভীন জলি জানান, রোগী দাহ্য বা প্রদাহকারী পদার্থে দগ্ধ হয়েছেন। গরম পানি নাকি অ্যাসিডজাতীয় কোনো পদার্থ নিক্ষেপ করা হয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুর পলাতক রয়েছেন। তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা গৃহবধূকে দগ্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তামবিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ বা মামলা পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে দগ্ধ, স্বামী-শ্বশুর পলাতক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জয়পুরহাটে যৌতুকের দাবিতে সাবেকুন নাহার (২৫) নামে এক গৃহবধূর শরীরে গরম পানি বা দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় গত পাঁচ দিন ধরে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেকুন নাহার জানান, তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলার কাদোয়া কয়রাপাড়া গ্রামের মোশাররফ হোসেনের মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে পাঁচবিবি উপজেলার খাসবাট্টা তৈফিকপাড়া গ্রামের আলেফ উদ্দীনের ছেলে সাজু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সাড়ে তিন মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

সাবেকুনের দাবি, বিয়ের সময় তার পরিবার আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দেয়। সম্প্রতি স্বামী সাজু মিয়া আরও টাকা দাবি করে আসছিলেন। তার বাবা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় অতিরিক্ত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এর জের ধরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তার শরীরে গরম পানি বা কোনো ক্ষতিকর দাহ্য পদার্থ ছুড়ে মারা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাবেকুনের স্বামী ও শ্বশুর তার শরীরে গরম পানি বা দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করেন। মেয়ের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তিনি জানান, মেয়ের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নত হলে থানায় মামলা করবেন।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুর্শিদা পারভীন জলি জানান, রোগী দাহ্য বা প্রদাহকারী পদার্থে দগ্ধ হয়েছেন। গরম পানি নাকি অ্যাসিডজাতীয় কোনো পদার্থ নিক্ষেপ করা হয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুর পলাতক রয়েছেন। তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা গৃহবধূকে দগ্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তামবিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ বা মামলা পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।