জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন জানান, যুক্তরাষ্ট্রে চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বা আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম, বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তব্য এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি ভাষণ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চার দিনে প্রায় ৫০টি পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করা হয়।
জাতিসংঘের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অবস্থান
প্রধানমন্ত্রীর ৩০টি কর্মসূচির মধ্যে আটটি সরাসরি জাতিসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে অংশগ্রহণ এবং সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ ছিল এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি নতুন সরকারের নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নারী, তরুণ, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া ব্রেকফাস্ট সেশনেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন বলে জানান মাহদী আমিন।
জলবায়ু ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘হাই লেভেল মিটিং অন ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’ এবং ‘হাই লেভেল মিটিং অন সি লেভেল রাইজ’ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জলবায়ু নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানো, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ আরও কার্যকর করার বিষয়েও বাংলাদেশের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।
স্বাস্থ্যসেবায় এক লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফারি ও মাতৃমৃত্যু কমানোর বিষয়েও বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহদী আমিন জানান, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী রাখার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। ইউনিয়ন থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
এর পাশাপাশি জনগণের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটেও জোর বাংলাদেশের অবস্থানে
জাতিসংঘের একটি সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান মিয়ানমারে। তাই একদিকে প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
‘থ্রি-আর’ কৌশল ও সামাজিক কর্মসূচি
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণকে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনে সরকারের ‘থ্রি-আর’—রিকভারি, রিস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড ও ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের রূপরেখাও জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে।
এআই ও প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব
প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের পরিবর্তিত বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।
তার ভাষণেও উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত বৈষম্য যাতে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের ‘এআই ডিভাইডে’ পরিণত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।






















