বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গৃহবধূর অবস্থান, বাড়িতে তালা দিয়ে চলে গেলেন সিয়াম

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক সন্তানের জননী এক গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামের সিয়ামের বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন নামের ওই নারী।
সাবিনা ইয়াসমিনের দাবি, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিয়াম তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে সিয়াম অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানতে পেরে তিনি তাঁর বাড়িতে এসে অবস্থান নেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার সিয়াম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এদিকে সিয়াম তাঁকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করার কথা জানিয়েছেন সাবিনা।
বাড়ির সামনে অবস্থান, ভিড় স্থানীয়দের
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সিয়ামের বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় তাঁকে দেখতে আশপাশের প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবিনা ইয়াসমিন মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁর চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
প্রায় দুই বছর ধরে সম্পর্কের দাবি
স্থানীয় সূত্র জানায়, সিয়াম হিন্দা এলাকার আব্দুল মোতালেবের ছেলে। তিনি মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি গ্রামে তাঁর নানার বাড়িতে থাকেন। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে পরিচয়ের পর তাঁদের মধ্যে প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, তিনি প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে স্বামী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে সংসার করছেন। তাঁর স্বামী একটি এনজিওতে চাকরি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সিয়াম তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে সিয়াম তাঁর বাড়িতেও আসা-যাওয়া করতেন। একদিন প্রতিবেশীরা তাঁকে ঘরে দেখে ফেললে সিয়াম বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে যান। এরপরও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখেন বলে দাবি সাবিনার।
অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতির খবর পেয়ে অবস্থান
সাবিনা বলেন, হঠাৎ জানতে পারেন সিয়াম অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করতে ধাওয়াপাড়া কাপাসটিকরি গ্রামের প্রবাসী সদরুল আলমের মেয়ের বাড়িতে গেছেন। এই খবর পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তিনি সিয়ামের বাড়িতে এসে অবস্থান নেন।
তিনি বলেন, “সিয়াম না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।”
তবে সিয়ামের বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা
স্থানীয় বিএনপি নেতা সাকিলুর রহমান তালুকদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুক্তারুল আলম বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
























