কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছিল ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সারা দেশে লোডশেডিং আরও বেড়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র জানায়, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যায়। গত মাসের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ কিছুটা বাড়লে দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি।
বৃহস্পতিবার রাতে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। তবে রাত ১২টার দিকে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উৎপাদন নেমে এসেছে ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে।
বয়লারে ত্রুটি, উৎপাদন বাড়তে সময় লাগবে
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রটির একটি ইউনিটের বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বয়লারটি শীতল হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি শনাক্ত করে মেরামতের কাজ শুরু হবে।
তাদের মতে, ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট করে ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট রয়েছে।
চাহিদা অনুযায়ী এই কেন্দ্র থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে।
গ্যাস-কয়লা সংকটে চাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন
পিডিবি সূত্র বলছে, দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট।
একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কয়লার স্বল্পতা ও কারিগরি সমস্যায় বিভিন্ন কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
কয়লা সংকটের পাশাপাশি পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও কয়েক দিন ধরে কারিগরি সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। পটুয়াখালীর আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে দেখা দিয়েছে কয়লার স্বল্পতা। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও কয়লা সংকটে উৎপাদন কমিয়েছে।
জ্বালানি তেল দিয়েও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানো হলেও ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা যাচ্ছে না। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় লোডশেডিংও বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল বেলা ৩টার দিকে—৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। শুক্রবার ছুটির দিন সকালেও সারা দেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পুরো বিদ্যুৎ খাতে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। কয়লা, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকটে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না।
দেশে মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও জ্বালানির অভাবে বেশ কিছু কেন্দ্র নিয়মিত বন্ধ থাকছে। আবার কয়েকটি কেন্দ্র চলছে সীমিত সক্ষমতায়। এর সঙ্গে নতুন করে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি আরও বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের লোডশেডিং পরিস্থিতিতে।





















