ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সিলেট সিটি নির্বাচন ঘিরে সরব রাজনীতি, বিএনপির ৬ ও জামায়াতের ৩ সম্ভাব্য প্রার্থী

সিলেট ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা আসতেই সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিএনপির ছয়জন এবং জামায়াতের তিন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী।

অন্যদিকে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম এবং জেলা যুব ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা লোকমান আহমদ।

বিএনপিতে মনোনয়নের দৌড়ে ছয়জন

বিএনপির ছয় মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে তিনজন বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তবে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে তাদের।

সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী নগরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত থাকায় নিয়মিত মাঠে থাকছেন। সম্প্রসারিত সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ড্রেন প্রশস্তকরণসহ নানা উন্নয়নকাজে তার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি নগরবাসীর কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

মিফতাহ সিদ্দিকীও সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে আলোচনায় রয়েছেন। ওয়াসার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় তিনি। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকার কারণে দলের নেতাকর্মীদের কাছেও তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে।

রেজাউল হাসান কয়েস লোদী দীর্ঘদিন সিসিকের কাউন্সিলর ছিলেন। মহানগর বিএনপির নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি নগরবাসীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগকে নির্বাচনে নিজের শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।

ইমদাদ হোসেন চৌধুরী রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে বিভিন্ন সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে দুই বছর পর মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ফিরে আসা নাসিম হোসাইনের ‘কামব্যাক’ও সিটি নির্বাচনের হিসাব-নিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরীও মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে পূর্ব সিলেট অঞ্চলের একমাত্র আলোচিত মুখ তিনি।

জামায়াতেও চলছে প্রস্তুতি

জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখনো সরাসরি সিটি নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচারে নামেননি। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে নগরবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন তারা।

মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতি চলছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে দলীয় প্রার্থী ছিলেন। ফলে সিটি নির্বাচনেও তার নামটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

কে পাচ্ছেন দলীয় টিকিট?

দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাই এখন জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজ নিজ দলের নীতিনির্ধারকদের নজরে থাকার চেষ্টা করছেন। সরকারি দায়িত্ব, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচিতি, সাংগঠনিক অবস্থান এবং নগরবাসীর সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ—সবকিছুই এবার মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর দাবি, ২০ বছর কাউন্সিলর থাকার কারণে নগরবাসীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং নির্বাচনের জন্য তিনি প্রস্তুত।

অন্যদিকে আবদুল কাইয়ূম চৌধুরীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়ে মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নগরের চলমান বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ পেলে সিলেটের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই সিলেটে মেয়র পদ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের ভেতরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড় শুরু হয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন—দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে টিকে থাকেন, আর নগরবাসীর ভোটে কে পান সিলেটের নেতৃত্ব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সিলেট সিটি নির্বাচন ঘিরে সরব রাজনীতি, বিএনপির ৬ ও জামায়াতের ৩ সম্ভাব্য প্রার্থী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা আসতেই সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিএনপির ছয়জন এবং জামায়াতের তিন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী।

অন্যদিকে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম এবং জেলা যুব ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা লোকমান আহমদ।

বিএনপিতে মনোনয়নের দৌড়ে ছয়জন

বিএনপির ছয় মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে তিনজন বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তবে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে তাদের।

সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী নগরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত থাকায় নিয়মিত মাঠে থাকছেন। সম্প্রসারিত সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ড্রেন প্রশস্তকরণসহ নানা উন্নয়নকাজে তার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি নগরবাসীর কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

মিফতাহ সিদ্দিকীও সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে আলোচনায় রয়েছেন। ওয়াসার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় তিনি। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকার কারণে দলের নেতাকর্মীদের কাছেও তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে।

রেজাউল হাসান কয়েস লোদী দীর্ঘদিন সিসিকের কাউন্সিলর ছিলেন। মহানগর বিএনপির নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি নগরবাসীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগকে নির্বাচনে নিজের শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।

ইমদাদ হোসেন চৌধুরী রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে বিভিন্ন সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে দুই বছর পর মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ফিরে আসা নাসিম হোসাইনের ‘কামব্যাক’ও সিটি নির্বাচনের হিসাব-নিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরীও মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে পূর্ব সিলেট অঞ্চলের একমাত্র আলোচিত মুখ তিনি।

জামায়াতেও চলছে প্রস্তুতি

জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখনো সরাসরি সিটি নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচারে নামেননি। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে নগরবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন তারা।

মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতি চলছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে দলীয় প্রার্থী ছিলেন। ফলে সিটি নির্বাচনেও তার নামটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

কে পাচ্ছেন দলীয় টিকিট?

দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাই এখন জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজ নিজ দলের নীতিনির্ধারকদের নজরে থাকার চেষ্টা করছেন। সরকারি দায়িত্ব, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচিতি, সাংগঠনিক অবস্থান এবং নগরবাসীর সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ—সবকিছুই এবার মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর দাবি, ২০ বছর কাউন্সিলর থাকার কারণে নগরবাসীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং নির্বাচনের জন্য তিনি প্রস্তুত।

অন্যদিকে আবদুল কাইয়ূম চৌধুরীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়ে মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নগরের চলমান বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ পেলে সিলেটের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই সিলেটে মেয়র পদ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের ভেতরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড় শুরু হয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন—দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে টিকে থাকেন, আর নগরবাসীর ভোটে কে পান সিলেটের নেতৃত্ব।