রোহিঙ্গার সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের বক্তব্যে ঢাকার ক্ষোভ, রাষ্ট্রদূতকে তলব
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর ও ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের অবস্থানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. তৌফিক-উর-রহমান রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো-কে ডেকে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
বৈঠকে গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত একটি বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই বিবৃতিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয় এবং বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
ঢাকা বলেছে, জাতিসংঘ ব্যবস্থায় নিবন্ধিত তথ্যই রোহিঙ্গাদের সংখ্যার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভিত্তি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রকৃত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নির্ধারণে এসব তথ্য বিবেচনায় নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
যাচাই প্রক্রিয়ায় নতুন প্রজন্মকেও অন্তর্ভুক্তির দাবি
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় রোহিঙ্গাদের যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে, যাচাইয়ের সময় শুধু পুরোনো তালিকা নয়, শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদেরও হিসাবের আওতায় আনতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই ও নিবন্ধনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। যথাসময়ে এসব তথ্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের পরিচয়কে ভিন্নভাবে উপস্থাপন বা সংজ্ঞায়িত করার যেকোনো প্রচেষ্টা ঢাকা মেনে নেবে না।
‘রোহিঙ্গারা বাঙালি নয়’
বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তৌফিক-উর-রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, রোহিঙ্গারা কোনোভাবেই ‘বাঙালি’ নয়। তাদের নিজস্ব ও স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় রয়েছে। বাংলাদেশের দাবি, মিয়ানমারও সাম্প্রতিক অতীতে বিভিন্ন পর্যায়ে এই পরিচয়কে স্বীকার করেছে।
জবাবে রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো বাংলাদেশের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণগুলো তাঁর সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে মিয়ানমারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ আবারও জানায়, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের টেকসই সমাধান।




















