হকারদের জন্য নতুন নীতিমালা, কোথায় বসবেন আর মাসে কত টাকা দেবেন?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার মূল সড়কে আর বসতে পারবেন না কোনো হকার। তবে প্রশস্ত ফুটপাত থাকা সড়কে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা খালি রেখে নিবন্ধিত হকারদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে। আর যাঁরা এই সুযোগের বাইরে থাকবেন, তাঁদের জন্য চালু করা হবে হলিডে মার্কেট ও নৈশকালীন মার্কেট।
সোমবার (১৭ আগস্ট) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, হকারদের জীবিকা বন্ধ করা সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য নয়। তবে নাগরিকদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা প্রয়োজন।
নিবন্ধনে ৫ হাজার, মাসে ৩ হাজার
‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী, হকারদের এককালীন নিবন্ধন ফি দিতে হবে ৫ হাজার টাকা। প্রতিবছর নিবন্ধন নবায়নে লাগবে ২ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাবদ প্রতি মাসে দিতে হবে ৩ হাজার টাকা।
নিবন্ধিত হকারদের ব্যবসার স্থান ও সময় উল্লেখ করে বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।
নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক।
ফুটপাতে থাকতে হবে ৫ ফুট জায়গা
নীতিমালা অনুযায়ী, হকার বসানো হলেও ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের জন্য কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ মিটার বা প্রায় ৫ ফুট জায়গা খালি রাখতে হবে।
হকারদের জন্য কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না। নির্ধারিত স্থান ও সময়ের বাইরে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগও থাকবে না।
শুক্রবার-শনিবার হলিডে মার্কেট
নীতিমালা অনুযায়ী, শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে হলিডে মার্কেট বসানো যাবে।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নৈশকালীন মার্কেট পরিচালনার সুযোগ থাকবে।
তবে মাঠ, উপাসনালয় কিংবা কবরস্থানে এসব মার্কেট বসানো যাবে না।
নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা
হকারদের স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষণ করা হবে।
একই সঙ্গে ব্যবসার জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং নির্ধারিত বিনে বর্জ্য ফেলার বাধ্যবাধকতা থাকবে। নিয়ম ভেঙে ব্যবসা পরিচালনা করলে উচ্ছেদ করার পাশাপাশি নিবন্ধন বাতিলের বিধানও রাখা হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, হকারদের জীবিকা ও নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্য—দুই দিক বিবেচনায় নিয়েই নতুন ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হবে। দীর্ঘদিনের হকার সমস্যার একটি স্থায়ী ও সুশৃঙ্খল সমাধানই এখন সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য।




















