অবসরের পরও এলজিইডিতে সক্রিয় আবুল কাশেম, সম্পদের উৎস নিয়ে নতুন প্রশ্ন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
ঘোষিত আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের বিস্ময়কর অমিল, প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় প্রশ্নের পর প্রশ্ন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আম্পান পুনর্বাসন প্রকল্পের সাবেক হিসাবরক্ষক আবুল কাশেমকে ঘিরে উঠে এসেছে অনিয়ম, আর্থিক অসঙ্গতি ও প্রভাব খাটানোর একাধিক অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, আবুল কাশেমের কর্মকাণ্ডে প্রকল্প পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কয়েক মাস আগে অবসরে গেলেও আবুল কাশেম এখনো নিয়মিত এলজিইডি কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তবে অবসরের পর কোন প্রশাসনিক আদেশ, চুক্তি বা আইনি ভিত্তিতে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে সরকারি বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, প্রাপ্ত তথ্য এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাঁর আয়-ব্যয়ের হিসাব ও দৃশ্যমান সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্যের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া এবং অবসরের পরও সরকারি দপ্তরে কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এসব অভিযোগের নথিভিত্তিক অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে ধারাবাহিক তিন পর্বের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। আজ প্রকাশিত হলো সেই ধারাবাহিকের দ্বিতীয় পর্ব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আবুল কাশেমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে তাঁর প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন এবং সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকাসহ নিজ গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আবুল কাশেমের নামে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের নামে একাধিক স্থাবর সম্পদের তথ্য মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব সম্পদের একটি অংশ তাঁর ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সম্পদগুলোর প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস ও অধিগ্রহণের বৈধতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আবুল কাশেমকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে এক সাংবাদিক ধারাবাহিকভাবে তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ওই সাংবাদিকের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে পাওয়া যায়নি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক কর্মকর্তা বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ঘোষিত আয় ও দৃশ্যমান সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্যের অভিযোগ উঠলে তা অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতার ইঙ্গিত মিললে সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে-বেনামে থাকা সম্পদের তথ্য যাচাই করা হয়। অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র বলেন, “শিগগিরই তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে। অভিযোগটি জমা পড়লে বিষয়টির বিভিন্ন দিক এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ আরও স্পষ্ট হয়ে আসবে বলে আমরা মনে করছি।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল কাশেমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।



























