আয়ের সঙ্গে মিল নেই সম্পদের, আলোচনায় এলজিইডির আবুল কাশেম

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আম্পান প্রকল্পের হিসাব রক্ষক আবুল কাশেমকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর ঘোষিত আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের সামঞ্জস্য নেই। পাশাপাশি প্রকল্পে দায়িত্ব পালন, অবসরের পরও সরকারি দপ্তরে বহাল থাকা এবং প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আবুল কাশেমের অনিয়ম-দুর্নীতির তিন পর্বের প্রতিবেদর প্রথম পর্ব আজ প্রকাশিত হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কয়েক মাস আগে অবসরে গেলেও আবুল কাশেম এখনো আগের মতোই নিয়মিত অফিস করছেন এবং সরকারি দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি কোন প্রশাসনিক বা আইনি ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আম্পান প্রকল্পের বেশ কিছু কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না হলেও কাগজে-কলমে শতভাগ বাস্তবায়ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য কাজ সম্পন্ন করে পুরো প্রকল্পের বিল ছাড় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রকল্পের নথিপত্রে কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলেও মাঠপর্যায়ে গিয়ে অনেক কাজ অসম্পূর্ণ কিংবা শুরুই হয়নি। এ ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
এছাড়া আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে কর্মজীবনে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজ এলাকায় এবং রাজধানীতে তাঁর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, যার সঙ্গে তাঁর বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবুল কাশেমের বক্তব্য নিতে এলজিইডি অফিসে গেলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি হোয়াটসঅপে ফোন দিয়ে কোন মন্তব্য না করে তার ভাই পরিচয়দারী এক ব্যক্তিকে দিয়ে কথা বলান এবং অফিসে চায়ের দাওয়াত দেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা কমিশনের তদন্তের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদ অর্জন বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তাদের ভাষ্য, সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচার, বাস্তবে কাজ না করেই বিল উত্তোলন কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো অভিযোগ দুর্নীতির গুরুতর সূচক। এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে কমিশন প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে।



























