সরকারি টাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে মানা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:২০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ, সুদমুক্ত বিশেষ ঋণে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনা এবং সরকারি অর্থে নতুন মোটরযান, জলযান ও আকাশযান ক্রয় আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান—সব ক্ষেত্রেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই ব্যয়সংকোচন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ থাকবে। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো সরকারি যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় যানবাহন অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে কেনা যাবে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহারের যানবাহন ছাড়া নতুন বা প্রতিস্থাপন হিসেবে কেনা সব জিপ ও কার অবশ্যই ফুল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (এফইভি) হতে হবে।
এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুদমুক্ত বিশেষ ঋণে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার সুবিধাও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
ব্যয়সংকোচনের অংশ হিসেবে সরকারি অর্থায়নে বিদেশ সফর, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণও বন্ধ থাকবে। তবে বিদেশি সরকার, উন্নয়ন সহযোগী বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণ, স্কলারশিপ, ফেলোশিপ এবং মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার জন্য বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ বহাল থাকবে।
এদিকে পরিচালন বাজেটের আওতায় নতুন আবাসিক, অনাবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্পের নির্মাণকাজ ৭০ শতাংশ বা তার বেশি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে শেষ করা যাবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণে কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ভূমি অধিগ্রহণ করা যাবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সব সরকারি ব্যয়ে ‘ভ্যালু ফর মানি’ বা অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।



















