ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিরকুটে শেষ ইচ্ছা, ব্যারাকে মিলল মরদেহ

বরগুনা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতিদিনের মতোই হয়তো দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। সহকর্মীদের সঙ্গে কাটছিল কর্মব্যস্ত সময়। কিন্তু রোববার সকালে তালতলী থানার ব্যারাকের একটি কক্ষ থেকে যে খবর বেরিয়ে এলো, তা শোকাহত করেছে পুরো পুলিশ সদস্যদের।

নিজ কক্ষে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় পুলিশ কনস্টেবল মো. ফারুক হোসেন গাজীকে। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি রেখে গেছেন চার পৃষ্ঠার একটি চিরকুট, যেখানে উঠে এসেছে তার কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতি, শেষ ইচ্ছা ও পরিবারের প্রতি কিছু বার্তা।

৫৫ বছর বয়সী ফারুক হোসেন গাজীর বাড়ি ঝালকাঠীর রাজাপুর উপজেলার আংগারিয়া গ্রামে। প্রায় এক মাস আগে তিনি পাথরঘাটা থানা থেকে বদলি হয়ে তালতলী থানায় যোগ দিয়েছিলেন। নতুন কর্মস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময়েই হঠাৎ থেমে গেল তার জীবনের পথচলা।

ঘটনার পর তার কক্ষ তল্লাশি করে চার পৃষ্ঠার একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সেখানে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি তিনি। মৃত্যুর পর মরদেহ পৈতৃক বাড়িতে পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি লিখে গেছেন পরিবারের কিছু ব্যক্তিগত বিষয়ও।

চিরকুটের পাতাগুলো যেন একজন মানুষের নীরব মনের কথার সাক্ষী। কর্মজীবনের দায়িত্ব আর ব্যক্তিগত জীবনের নানা অনুভূতির মাঝখানে তিনি কী ভাবছিলেন, কী বলতে চেয়েছিলেন—সেসব প্রশ্নের উত্তর হয়তো লুকিয়ে আছে সেই লেখাগুলোর ভেতরেই।

তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। চিরকুটেও মৃত্যুর নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ নেই।

ফারুক হোসেন গাজীর আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে মানুষটি কিছুদিন আগেও ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তিনি আজ শুধু স্মৃতি। আর তার কক্ষে পড়ে থাকা চার পৃষ্ঠার চিরকুট হয়ে উঠেছে জীবনের শেষ অধ্যায়ের নীরব সাক্ষ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চিরকুটে শেষ ইচ্ছা, ব্যারাকে মিলল মরদেহ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

প্রতিদিনের মতোই হয়তো দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। সহকর্মীদের সঙ্গে কাটছিল কর্মব্যস্ত সময়। কিন্তু রোববার সকালে তালতলী থানার ব্যারাকের একটি কক্ষ থেকে যে খবর বেরিয়ে এলো, তা শোকাহত করেছে পুরো পুলিশ সদস্যদের।

নিজ কক্ষে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় পুলিশ কনস্টেবল মো. ফারুক হোসেন গাজীকে। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি রেখে গেছেন চার পৃষ্ঠার একটি চিরকুট, যেখানে উঠে এসেছে তার কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতি, শেষ ইচ্ছা ও পরিবারের প্রতি কিছু বার্তা।

৫৫ বছর বয়সী ফারুক হোসেন গাজীর বাড়ি ঝালকাঠীর রাজাপুর উপজেলার আংগারিয়া গ্রামে। প্রায় এক মাস আগে তিনি পাথরঘাটা থানা থেকে বদলি হয়ে তালতলী থানায় যোগ দিয়েছিলেন। নতুন কর্মস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময়েই হঠাৎ থেমে গেল তার জীবনের পথচলা।

ঘটনার পর তার কক্ষ তল্লাশি করে চার পৃষ্ঠার একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সেখানে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি তিনি। মৃত্যুর পর মরদেহ পৈতৃক বাড়িতে পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি লিখে গেছেন পরিবারের কিছু ব্যক্তিগত বিষয়ও।

চিরকুটের পাতাগুলো যেন একজন মানুষের নীরব মনের কথার সাক্ষী। কর্মজীবনের দায়িত্ব আর ব্যক্তিগত জীবনের নানা অনুভূতির মাঝখানে তিনি কী ভাবছিলেন, কী বলতে চেয়েছিলেন—সেসব প্রশ্নের উত্তর হয়তো লুকিয়ে আছে সেই লেখাগুলোর ভেতরেই।

তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। চিরকুটেও মৃত্যুর নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ নেই।

ফারুক হোসেন গাজীর আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে মানুষটি কিছুদিন আগেও ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তিনি আজ শুধু স্মৃতি। আর তার কক্ষে পড়ে থাকা চার পৃষ্ঠার চিরকুট হয়ে উঠেছে জীবনের শেষ অধ্যায়ের নীরব সাক্ষ্য।