ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তহবিলের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন এমপিরা, উন্নয়ন ব্যয়ে আসছে নতুন ব্যবস্থা

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংসদ সদস্যদের (এমপি) নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য সরাসরি থোক বরাদ্দ দেওয়ার দীর্ঘদিনের পদ্ধতি থেকে সরে আসছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় এমপিরা আর উন্নয়ন তহবিলের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ পাবেন না; বরং তারা নিজ নিজ এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) অধীনে এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। সেলটির নেতৃত্বে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমপিদের জমা দেওয়া প্রকল্প প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন পাবে না। সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, নীতিগত লক্ষ্য ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। নির্বাচিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও তাদের অধীনস্থ সংস্থাগুলোর ওপর।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এমপিরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বড় অঙ্কের বার্ষিক বরাদ্দ পেতেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিটি এমপির জন্য ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ ছিল। তবে এ ব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল।

নতুন কাঠামোর আওতায় প্রকল্প মূল্যায়ন ও অনুমোদনের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এমপিদের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাব যাচাইয়ের পর সেল তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতি মাসে সেলকে জানাতে হবে এবং কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা সমাধানে সেল ভূমিকা রাখবে।

এদিকে সরকার গঠনের পরপরই এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে।

‘সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সেল’ নামে গঠিত এ ইউনিটের লক্ষ্য হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বৃদ্ধি করা।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ সিদ্ধান্ত উন্নয়ন ব্যয়ে স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং এমপিদের মাধ্যমে তহবিল ব্যবহারে যে অনিয়মের অভিযোগ ছিল, তা কমাতে সহায়তা করবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এমপি ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তহবিলের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন এমপিরা, উন্নয়ন ব্যয়ে আসছে নতুন ব্যবস্থা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

সংসদ সদস্যদের (এমপি) নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য সরাসরি থোক বরাদ্দ দেওয়ার দীর্ঘদিনের পদ্ধতি থেকে সরে আসছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় এমপিরা আর উন্নয়ন তহবিলের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ পাবেন না; বরং তারা নিজ নিজ এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) অধীনে এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। সেলটির নেতৃত্বে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমপিদের জমা দেওয়া প্রকল্প প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন পাবে না। সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, নীতিগত লক্ষ্য ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। নির্বাচিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও তাদের অধীনস্থ সংস্থাগুলোর ওপর।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এমপিরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বড় অঙ্কের বার্ষিক বরাদ্দ পেতেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিটি এমপির জন্য ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ ছিল। তবে এ ব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল।

নতুন কাঠামোর আওতায় প্রকল্প মূল্যায়ন ও অনুমোদনের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এমপিদের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাব যাচাইয়ের পর সেল তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতি মাসে সেলকে জানাতে হবে এবং কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা সমাধানে সেল ভূমিকা রাখবে।

এদিকে সরকার গঠনের পরপরই এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে।

‘সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সেল’ নামে গঠিত এ ইউনিটের লক্ষ্য হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বৃদ্ধি করা।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ সিদ্ধান্ত উন্নয়ন ব্যয়ে স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং এমপিদের মাধ্যমে তহবিল ব্যবহারে যে অনিয়মের অভিযোগ ছিল, তা কমাতে সহায়তা করবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এমপি ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি বলে তিনি মনে করেন।