২০২৫ সালেই ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ঢামেকে ১১০০ নারী, উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
২০২৫ সালে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষার জন্য প্রায় ১ হাজার ১০০ নারী রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এসেছেন। এই তথ্য নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান। তিনি বলেন, শুধু ২০২৫ সালেই ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ১১০০ নারী ঢামেক হাসপাতালে এসেছেন, যা দেশের নারী ও শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসে।
তিনি আরও বলেন, অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জা, ভয় এবং আইনি জটিলতার কারণে অভিযোগই করেন না। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গোলটেবিল বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, আইনজীবী রাশনা ইমামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম।
আলোচনায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন শিশুদের নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি পরিবার থেকেই গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল শিশু সুরক্ষায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় শিশু সুরক্ষা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, মাদকসহ সমাজের বিভিন্ন অপরাধ ও সামাজিক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে শিশু নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এজন্য সামাজিক আন্দোলন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় সম্প্রতি আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনাও উঠে আসে। রামিসার বাবা দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানালে উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও অধিকারকর্মীরা বলেন, যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের শুধু শারীরিক চিকিৎসাই নয়, মানসিক সহায়তাও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার, নিরাপদ আইনি সহায়তা এবং ভুক্তভোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
তাদের মতে, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এই সংকট মোকাবিলা করতে।



























