ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খেয়াঘাটের স্থায়ী ইজারা বাতিলের দাবিতে চরবাসীর মানববন্ধন

মো: সোহরাব হোসেন সৌরভ রাজশাহী
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর পবা উপজেলার চর মাজারদিয়াড় (আমিরপুর) খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় চরবাসী।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর শ্রীরামপুর টি-বাঁধ এলাকায় নদীর তীরে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, চর মাজারদিয়াড়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্য রাজশাহী শহরে বিক্রির জন্য নদীপথে পরিবহন করতে হয়। কিন্তু খেয়াঘাটে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ না করে ইজারাদার পক্ষ অতিরিক্ত টোল আদায় করছে।

এতে কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে অনেক সময় যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বক্তারা বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে প্রতিবছর চরাঞ্চলের আবাদযোগ্য জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ফলে কৃষিনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সীমিত আয়ের এসব মানুষের জন্য অতিরিক্ত টোল আদায় নতুন করে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

তাদের দাবি, এই ঘাট মূলত কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়; এখানে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম, গরুর করিডোর কিংবা সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা নেই।

মানববন্ধনে জানানো হয়, পবা উপজেলার ৪ নম্বর হরিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর মাজারদিয়াড় এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে মাজারদিয়াড় (আমিরপুর) খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম-এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চর মাজারদিয়াড় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির, জেলা জজ আদালতের আইনজীবী সেলিম রেজা, জেলা তাঁতী দলের সভাপতি কুতুবউদ্দিন বাদশাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ।

স্থানীয়দের আশা, চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

খেয়াঘাটের স্থায়ী ইজারা বাতিলের দাবিতে চরবাসীর মানববন্ধন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

রাজশাহীর পবা উপজেলার চর মাজারদিয়াড় (আমিরপুর) খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় চরবাসী।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর শ্রীরামপুর টি-বাঁধ এলাকায় নদীর তীরে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, চর মাজারদিয়াড়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্য রাজশাহী শহরে বিক্রির জন্য নদীপথে পরিবহন করতে হয়। কিন্তু খেয়াঘাটে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ না করে ইজারাদার পক্ষ অতিরিক্ত টোল আদায় করছে।

এতে কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে অনেক সময় যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বক্তারা বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে প্রতিবছর চরাঞ্চলের আবাদযোগ্য জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ফলে কৃষিনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সীমিত আয়ের এসব মানুষের জন্য অতিরিক্ত টোল আদায় নতুন করে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

তাদের দাবি, এই ঘাট মূলত কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়; এখানে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম, গরুর করিডোর কিংবা সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা নেই।

মানববন্ধনে জানানো হয়, পবা উপজেলার ৪ নম্বর হরিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর মাজারদিয়াড় এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে মাজারদিয়াড় (আমিরপুর) খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম-এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চর মাজারদিয়াড় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির, জেলা জজ আদালতের আইনজীবী সেলিম রেজা, জেলা তাঁতী দলের সভাপতি কুতুবউদ্দিন বাদশাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ।

স্থানীয়দের আশা, চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।