ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দলের ‘মালিকানা’ বদল! মমতার তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিবৃত্ত

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী শক্তি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-এর ২৮ বছরের ইতিহাসে নতুন মোড় এসেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাত থেকে কার্যত নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ সরে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের রাজনৈতিক যাত্রাপথ আবারও আলোচনায় এসেছে।

ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস-এ যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালে যাদবপুর আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন। সে নির্বাচনে তিনি প্রবীণ বাম নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়-কে পরাজিত করেন।

নব্বইয়ের দশকে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ বাড়তে থাকলে ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তিনি তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। দলটির মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটানো।

সংগ্রাম থেকে ক্ষমতার শীর্ষে

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তৃণমূল ধীরে ধীরে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৭টি এবং ১৯৯৯ সালে ৮টি আসনে জয় পায় দলটি। ২০০০ সালে প্রথমবারের মতো কলকাতা পুরসভা দখল করে তৃণমূল।

২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৬০টি আসন পেলেও ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলটির ফল নেমে আসে মাত্র একটি আসনে। তবে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন-কে কেন্দ্র করে মমতার নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক জোয়ার সৃষ্টি হয়।

২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ১৯টি আসন জয়ের মধ্য দিয়ে বামফ্রন্টের বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় তৃণমূল। এরপর ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১৮৪ আসনে জয় পেয়ে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে দলটি।

টানা সাফল্য, তারপর ধাক্কা

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৩৪টি আসন এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করে তৃণমূল। ২০১৯ সালে লোকসভায় ২২টি আসন এবং ২০২১ সালে বিধানসভায় ২১৫টি আসন জিতে তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও দলটি ২৯টি আসন পায়। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলে ভাঙনের সূত্রপাত ঘটে। দলীয় পরিষদীয় নেতৃত্বেও বড় পরিবর্তন আসে। বর্তমানে দলটির নতুন নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি একসময় বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠা থেকে ক্ষমতার শীর্ষে ওঠা এবং পরবর্তীতে নেতৃত্ব সংকটে পড়া—তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিহাস পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দলের ‘মালিকানা’ বদল! মমতার তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিবৃত্ত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী শক্তি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-এর ২৮ বছরের ইতিহাসে নতুন মোড় এসেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাত থেকে কার্যত নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ সরে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের রাজনৈতিক যাত্রাপথ আবারও আলোচনায় এসেছে।

ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস-এ যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালে যাদবপুর আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন। সে নির্বাচনে তিনি প্রবীণ বাম নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়-কে পরাজিত করেন।

নব্বইয়ের দশকে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ বাড়তে থাকলে ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তিনি তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। দলটির মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটানো।

সংগ্রাম থেকে ক্ষমতার শীর্ষে

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তৃণমূল ধীরে ধীরে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৭টি এবং ১৯৯৯ সালে ৮টি আসনে জয় পায় দলটি। ২০০০ সালে প্রথমবারের মতো কলকাতা পুরসভা দখল করে তৃণমূল।

২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৬০টি আসন পেলেও ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলটির ফল নেমে আসে মাত্র একটি আসনে। তবে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন-কে কেন্দ্র করে মমতার নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক জোয়ার সৃষ্টি হয়।

২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ১৯টি আসন জয়ের মধ্য দিয়ে বামফ্রন্টের বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় তৃণমূল। এরপর ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১৮৪ আসনে জয় পেয়ে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে দলটি।

টানা সাফল্য, তারপর ধাক্কা

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৩৪টি আসন এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করে তৃণমূল। ২০১৯ সালে লোকসভায় ২২টি আসন এবং ২০২১ সালে বিধানসভায় ২১৫টি আসন জিতে তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও দলটি ২৯টি আসন পায়। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলে ভাঙনের সূত্রপাত ঘটে। দলীয় পরিষদীয় নেতৃত্বেও বড় পরিবর্তন আসে। বর্তমানে দলটির নতুন নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি একসময় বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠা থেকে ক্ষমতার শীর্ষে ওঠা এবং পরবর্তীতে নেতৃত্ব সংকটে পড়া—তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিহাস পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।