ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকিতে ঢাকা, বরিশাল, নরসিংদী ও কক্সবাজার

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা, বরিশাল, নরসিংদী ও কক্সবাজার জেলায় এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব আশঙ্কাজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। এসব এলাকায় ব্রুটো ইনডেক্স ৭৬ থেকে ৯৩-এর মধ্যে পাওয়া গেছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

গবেষণায় জানা গেছে, গত এক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ভবনের পার্কিং এলাকা, বেজমেন্ট, নির্মাণাধীন ভবন এবং জমে থাকা পানির ড্রাম ও বালতিতে সবচেয়ে বেশি এডিসের লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। মোট লার্ভার ৪৮ শতাংশ পাওয়া গেছে পার্কিং ও বেজমেন্টে, আর ১৬ শতাংশ নির্মাণাধীন ভবনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি হলেই ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি ধরা হয়। সেখানে কয়েকটি এলাকায় এ সূচক ৯০-এর কাছাকাছি পৌঁছানো পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে প্রথমবারের মতো পরিচালিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জরিপে দেখা গেছে, সংস্থাটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন।

কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার সতর্ক করে বলেছেন, ঈদের পর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখনই সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৫ দিনের বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালানো হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে জমে থাকা পানি অপসারণ ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান নগরবাসীকে ফুলের টব, বাথরুম, পানির পাত্র ও খালি বাসায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, জনসচেতনতা বাড়াতে পারলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৌসুমের প্রথম দিনেই ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকিতে ঢাকা, বরিশাল, নরসিংদী ও কক্সবাজার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা, বরিশাল, নরসিংদী ও কক্সবাজার জেলায় এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব আশঙ্কাজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। এসব এলাকায় ব্রুটো ইনডেক্স ৭৬ থেকে ৯৩-এর মধ্যে পাওয়া গেছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

গবেষণায় জানা গেছে, গত এক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ভবনের পার্কিং এলাকা, বেজমেন্ট, নির্মাণাধীন ভবন এবং জমে থাকা পানির ড্রাম ও বালতিতে সবচেয়ে বেশি এডিসের লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। মোট লার্ভার ৪৮ শতাংশ পাওয়া গেছে পার্কিং ও বেজমেন্টে, আর ১৬ শতাংশ নির্মাণাধীন ভবনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি হলেই ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি ধরা হয়। সেখানে কয়েকটি এলাকায় এ সূচক ৯০-এর কাছাকাছি পৌঁছানো পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে প্রথমবারের মতো পরিচালিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জরিপে দেখা গেছে, সংস্থাটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন।

কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার সতর্ক করে বলেছেন, ঈদের পর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখনই সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৫ দিনের বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালানো হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে জমে থাকা পানি অপসারণ ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান নগরবাসীকে ফুলের টব, বাথরুম, পানির পাত্র ও খালি বাসায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, জনসচেতনতা বাড়াতে পারলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৌসুমের প্রথম দিনেই ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।