বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যু, পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ!
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইল পৌরসভার দক্ষিণ থানাপাড়া এলাকায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ এবং মানসিক-শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত রতন মিয়া (৭০) দক্ষিণ থানাপাড়া এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন মুদি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ দোকানে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রতন মিয়া। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের দাবি, সম্পত্তি ও জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে রতন মিয়ার বিরোধ চলছিল। নিহতের স্বজন বাবলু এবং স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বাবুসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বিরোধের জেরে সোমবার রাতে তাকে মারধর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার সকালে দোকানে অবস্থানকালে রতন মিয়ার সঙ্গে তার পুত্রবধূ রোজিনা আক্তার ও নাতনী নদী আক্তারের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে ভয়ভীতি ও হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে রতন মিয়া দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় দোকানের কিছু মালামাল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঘটনার একপর্যায়ে রতন মিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় নারী জানান, বয়সের ভার সত্ত্বেও রতন মিয়া নিজেই ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও তাদের অভিযোগ। তারা জানান, এর আগেও তাকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমীন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















