উত্তরবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিক দবিরুল ইসলামের বিদায়
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিক আলহাজ দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দিয়ে। পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন।
ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিরল রেকর্ড রয়েছে তাঁর। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর পাঁচবার বিজয়ী হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এছাড়া দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে শিক্ষা, সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে তাঁর অবদান স্থানীয়দের কাছে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘসময় কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৩টায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নিজ জন্মস্থান বড়বাড়ী ইউনিয়নে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।





















