দক্ষিণ যুবদলের কমিটি ঘিরে জোর আলোচনা, নেতৃত্বে কারা আসছেন?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। দলীয় সূত্র বলছে, খসড়া তালিকা ইতোমধ্যে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্র থেকে সবুজ সংকেত মিললেই যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক বা আংশিক কমিটি দিয়ে সংগঠন পরিচালিত হওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছিল। এবার সেই স্থবিরতা কাটিয়ে সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, এবারের কমিটিতে ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও রাজপথে পরীক্ষিত নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, মামলা-হামলা মোকাবিলা করেছেন কিংবা কারাবরণ করেছেন—তাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সভাপতি পদে যাদের নাম আলোচনায়
সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। সাংগঠনিক দক্ষতা ও সারাদেশে তার গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদেও বিবেচনা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে আলোচনা রয়েছে।
যদি নয়ন কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পান, তাহলে দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদে এগিয়ে থাকতে পারেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ গাফফার। একইসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ।
তবে সোহাগ নিজেও সভাপতি পদের দৌড়ে রয়েছেন। দীর্ঘদিন দক্ষিণ যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেতা আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা-মামলা ও কারাভোগের কারণে তৃণমূলের একটি অংশের সমর্থন পেয়েছেন।
এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজলের নামও সভাপতি পদে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। তরুণ ও সাংগঠনিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে তাকে দেখছেন অনেক নেতাকর্মী।
ফয়সাল আহমেদ সজল বলেন, “দল যদি আমার ওপর আস্থা রাখে, তাহলে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবো। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”
সাধারণ সম্পাদক পদে কারা?
সাধারণ সম্পাদক পদেও চলছে জোর আলোচনা। এ পদে সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক সাবা করিম লাকি, ফয়সাল হেদায়েত সৈকত পণ্ডিত, রাফিজুল হাই রাফিজ এবং শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি।
এর মধ্যে শেখ খালিদ হাসান জ্যাকির নাম বেশ গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন এবং দীর্ঘদিন সংগঠনের রাজনীতিতে সক্রিয়।
এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না, সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসলাম এবং আসিফুর রহমান বিপ্লবের নামও আলোচনায় রয়েছে।
শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি বলেন, “দল যদি দায়িত্ব দেয়, তাহলে যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করবো।”
তৃণমূলের প্রত্যাশা
দক্ষিণ যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, এবার তারা বিতর্কমুক্ত, ত্যাগী এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্ব দেখতে চান। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
দলীয় একাধিক নেতা মনে করছেন, অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা গেলে সংগঠন যেমন গতিশীল হবে, তেমনি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নতুন কমিটি শুধু সংগঠনের ভেতরেই নয়, রাজধানীর রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন নেতৃত্ব ঘিরে ইতোমধ্যেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ।























