ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহবধূর পেট কেটে অপারেশন, পরে ডাক্তার জানালেন ‘বাচ্চাই ছিল না’

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামে পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক গৃহবধূর ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের পর চিকিৎসক জানান, তার শরীরে কোনো শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি—বরং অ্যাপেন্ডিসাইটিসের কারণে পেটব্যথা হচ্ছিল।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে নগরের পাহাড়তলী থানার একে খান এলাকায় অবস্থিত আল আমিন হাসপাতালে। পরে বুধবার (১৩ মে) বিষয়টি জানতে পারেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

ভুক্তভোগী জান্নাত সুলতানা বর্তমানে ওই হাসপাতালের ২৩২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি পাহাড়তলী থানার সিডিএ মার্কেটসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. রাকিবের স্ত্রী।

পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার রাত থেকে তীব্র পেটব্যথা শুরু হলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তার উপসর্গ ও আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখে ‘একটোপিক প্রেগন্যান্সি’ সন্দেহ করেন এবং জরুরি অপারেশনের পরামর্শ দেন।

রাকিব জানান, চিকিৎসক তাদের দ্রুত অস্ত্রোপচারের কথা বলেন এবং ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে রাত ১১টার দিকে অপারেশন করা হয়। তবে অপারেশনের পর জানানো হয়, রোগীর শরীরে কোনো শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, বরং অ্যাপেন্ডিসাইটিস ছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, পরে তারা জানতে পারেন এটি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন ছিল এবং ভুলভাবে ‘একটোপিক প্রেগন্যান্সি’ সন্দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এতে তার স্ত্রীর ভবিষ্যৎ মাতৃত্বে প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

রাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক প্রথমে জরায়ুর টিউব ফেটে গেছে বলে জানান এবং দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেন, যার কারণে তারা সম্মতি দিতে বাধ্য হন।

একই দিনে করা বিভিন্ন পরীক্ষায়ও ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যায়। আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে ‘একটোপিক প্রেগন্যান্সি’র ইঙ্গিত দেওয়া হলেও একই দিনে সেরোলজি পরীক্ষায় ‘প্রেগন্যান্সি নেগেটিভ’ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় আল আমিন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, রোগীর অপারেশন হয়নি—শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি তদন্তে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় একটি কমিটি গঠন করেছে বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গৃহবধূর পেট কেটে অপারেশন, পরে ডাক্তার জানালেন ‘বাচ্চাই ছিল না’

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

চট্টগ্রামে পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক গৃহবধূর ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের পর চিকিৎসক জানান, তার শরীরে কোনো শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি—বরং অ্যাপেন্ডিসাইটিসের কারণে পেটব্যথা হচ্ছিল।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে নগরের পাহাড়তলী থানার একে খান এলাকায় অবস্থিত আল আমিন হাসপাতালে। পরে বুধবার (১৩ মে) বিষয়টি জানতে পারেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

ভুক্তভোগী জান্নাত সুলতানা বর্তমানে ওই হাসপাতালের ২৩২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি পাহাড়তলী থানার সিডিএ মার্কেটসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. রাকিবের স্ত্রী।

পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার রাত থেকে তীব্র পেটব্যথা শুরু হলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তার উপসর্গ ও আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখে ‘একটোপিক প্রেগন্যান্সি’ সন্দেহ করেন এবং জরুরি অপারেশনের পরামর্শ দেন।

রাকিব জানান, চিকিৎসক তাদের দ্রুত অস্ত্রোপচারের কথা বলেন এবং ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে রাত ১১টার দিকে অপারেশন করা হয়। তবে অপারেশনের পর জানানো হয়, রোগীর শরীরে কোনো শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, বরং অ্যাপেন্ডিসাইটিস ছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, পরে তারা জানতে পারেন এটি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন ছিল এবং ভুলভাবে ‘একটোপিক প্রেগন্যান্সি’ সন্দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এতে তার স্ত্রীর ভবিষ্যৎ মাতৃত্বে প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

রাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক প্রথমে জরায়ুর টিউব ফেটে গেছে বলে জানান এবং দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেন, যার কারণে তারা সম্মতি দিতে বাধ্য হন।

একই দিনে করা বিভিন্ন পরীক্ষায়ও ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যায়। আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে ‘একটোপিক প্রেগন্যান্সি’র ইঙ্গিত দেওয়া হলেও একই দিনে সেরোলজি পরীক্ষায় ‘প্রেগন্যান্সি নেগেটিভ’ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় আল আমিন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, রোগীর অপারেশন হয়নি—শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি তদন্তে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় একটি কমিটি গঠন করেছে বলে জানা গেছে।