ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জয়পুরহাটে  ইনডোর স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নোয়াখালীতে রেলওয়ের জায়গা থেকে উচ্ছেদ ১২০ স্থাপনা নগরীর আলোকিত শিশু প্রকল্পে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির অনুষ্ঠিত সান্তাহারে ফল ব্যাবসায়ী সমিতির নতুন কমিটি গঠন জয়পুরহাটে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত  সিলেটে আলোচিত শিশু ফাহিমা হত্যার রোহমর্ষক বর্ণনা দিলো হত্যাকারী চাচা জাকির ইসলামপুরে ঝর্না ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ১ মাসের কারাদণ্ড পুলিশের বিরুদ্ধে গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ ধান কাটার মেশিন ভাড়ায় বাড়তি টাকা, ক্ষোভ কৃষকদের দূর্গম যমুনা চরের কাঁশবন থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

মাংসের দামে চাপে রেস্তোরাঁ খাত, আমদানির অনুমতি চান মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৯:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একসময় যে রেস্তোরাঁগুলোতে পরিবারের সবাই মিলে স্বাচ্ছন্দ্যে গরুর মাংসের খাবার খেতে যেতেন, এখন সেখানে অনেক ক্রেতাই দাম দেখে থমকে দাঁড়ান। বাজারে গরুর মাংসের বাড়তি দাম শুধু সাধারণ মানুষের পকেটেই চাপ ফেলছে না, বড় সংকটে ফেলেছে রেস্তোরাঁ ব্যবসাকেও।

রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি, দেশে গরুর মাংসের উচ্চমূল্য, সরবরাহ সংকট এবং পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিজেরাই বিদেশ থেকে গরুর মাংস আমদানির সুযোগ চান তারা।

রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংগঠনের নেতারা বলেন, বর্তমানে বাজারে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, শুধু দামই নয়—চাহিদার তুলনায় সরবরাহও কমে গেছে। পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশু পালনে আগ্রহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে রেস্তোরাঁ খাতে।

সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, “রেস্তোরাঁ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের সরাসরি গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দিতে হবে। এতে বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।”

শুধু মাংসের দাম নয়, করের চাপ নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ভ্যাট কমানো হলেও সম্পূরক শুল্ক, উৎসে করসহ নানা ধরনের কর ব্যবসাকে কঠিন অবস্থায় ফেলছে। আগামী বাজেটে এসব কর আরও সহনীয় করার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উঠে আসে রেস্তোরাঁ খাতের নানা সংকটের কথা। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, খাতটিকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন সহজ করা এবং গ্যাস সংকট সমাধানের দাবিও জানান নেতারা।

তাদের মতে, দেশে এখনো প্রায় ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ অনিবন্ধিত। আবার ছোট ও নতুন রেস্তোরাঁগুলোর অনেকেই গ্যাস সংযোগ না পেয়ে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, ফলে পরিচালন ব্যয় বাড়ছে।

একই সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে কিছু অসাধু চক্রের চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগও তুলে ধরেন তারা।

সব মিলিয়ে, বাড়তি খরচ আর অনিশ্চয়তার চাপে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত। আর সেই লড়াইয়ে স্বস্তি ফেরাতে তারা সরকারের কাছে চাইছেন নতুন নীতিগত সহায়তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মাংসের দামে চাপে রেস্তোরাঁ খাত, আমদানির অনুমতি চান মালিকরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৯:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

একসময় যে রেস্তোরাঁগুলোতে পরিবারের সবাই মিলে স্বাচ্ছন্দ্যে গরুর মাংসের খাবার খেতে যেতেন, এখন সেখানে অনেক ক্রেতাই দাম দেখে থমকে দাঁড়ান। বাজারে গরুর মাংসের বাড়তি দাম শুধু সাধারণ মানুষের পকেটেই চাপ ফেলছে না, বড় সংকটে ফেলেছে রেস্তোরাঁ ব্যবসাকেও।

রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি, দেশে গরুর মাংসের উচ্চমূল্য, সরবরাহ সংকট এবং পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিজেরাই বিদেশ থেকে গরুর মাংস আমদানির সুযোগ চান তারা।

রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংগঠনের নেতারা বলেন, বর্তমানে বাজারে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, শুধু দামই নয়—চাহিদার তুলনায় সরবরাহও কমে গেছে। পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশু পালনে আগ্রহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে রেস্তোরাঁ খাতে।

সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, “রেস্তোরাঁ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের সরাসরি গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দিতে হবে। এতে বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।”

শুধু মাংসের দাম নয়, করের চাপ নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ভ্যাট কমানো হলেও সম্পূরক শুল্ক, উৎসে করসহ নানা ধরনের কর ব্যবসাকে কঠিন অবস্থায় ফেলছে। আগামী বাজেটে এসব কর আরও সহনীয় করার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উঠে আসে রেস্তোরাঁ খাতের নানা সংকটের কথা। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, খাতটিকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন সহজ করা এবং গ্যাস সংকট সমাধানের দাবিও জানান নেতারা।

তাদের মতে, দেশে এখনো প্রায় ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ অনিবন্ধিত। আবার ছোট ও নতুন রেস্তোরাঁগুলোর অনেকেই গ্যাস সংযোগ না পেয়ে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, ফলে পরিচালন ব্যয় বাড়ছে।

একই সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে কিছু অসাধু চক্রের চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগও তুলে ধরেন তারা।

সব মিলিয়ে, বাড়তি খরচ আর অনিশ্চয়তার চাপে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত। আর সেই লড়াইয়ে স্বস্তি ফেরাতে তারা সরকারের কাছে চাইছেন নতুন নীতিগত সহায়তা।