লবণাক্ত জমিতে বোরোর বাম্পার, উদ্বৃত খাদ্যের জেলা বাগেরহাট
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে
উপকূলীয় বাগেরহাট-এ চিংড়ির তীব্র লবণাক্ত জমিতেই এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলায় ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে চাষ করে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪৯ লাখ ১ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন ধান। এর মধ্যে বীজ ও গোখাদ্য বাদ দিয়ে প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে। ফলে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের এই জেলা এখন বোরো ধানেই উদ্বৃত খাদ্য উৎপাদনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
চিংড়ি চাষে রোগবালাই ও ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে লবণ সহিষ্ণু উন্নত জাতের বোরো ধান চাষে ঝুঁকে পড়েন। এতে তাদের মুখে ফিরেছে হাসি। বর্তমানে কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষকদের ভাষ্য, ব্রি-৬৮, ব্রি-৯২, ব্রি-৯৭, ব্রি-৯৯ ও বিনা-১৯ জাতের ধান চাষে উল্লেখযোগ্য ফলন মিলেছে। আগে লবণাক্ততার কারণে যেখানে চিংড়ি চাষই ছিল প্রধান ভরসা, সেখানে এখন ধান চাষ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
রামপাল উপজেলা ও মোংলা উপজেলা-এর কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষি বিভাগের সহায়তায় উন্নত জাতের বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ পাওয়ায় তারা সফল হয়েছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন আরও বাড়বে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় এ অঞ্চলের মাটি ও পানিতে উচ্চ লবণাক্ততা থাকায় আগে কৃষকরা ধান চাষে অনাগ্রহী ছিলেন। তবে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান চাষে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট এবং উপকরণ সহায়তা দেওয়ায় পরিস্থিতি বদলেছে।
তিনি আরও জানান, এ বছর ৬৭ হাজার ৬২২ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ছাড়িয়ে ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৭ শতাংশ জমিতে লবণ সহিষ্ণু উন্নত জাতের ধান চাষ করায় বাম্পার ফলন এসেছে।
কৃষি বিভাগের আশা, আগামীতে বাগেরহাট-এ এ ধরনের ধান চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং উপকূলীয় কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।




















