ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জয়পুরহাটে  ইনডোর স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নোয়াখালীতে রেলওয়ের জায়গা থেকে উচ্ছেদ ১২০ স্থাপনা নগরীর আলোকিত শিশু প্রকল্পে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির অনুষ্ঠিত সান্তাহারে ফল ব্যাবসায়ী সমিতির নতুন কমিটি গঠন জয়পুরহাটে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত  সিলেটে আলোচিত শিশু ফাহিমা হত্যার রোহমর্ষক বর্ণনা দিলো হত্যাকারী চাচা জাকির ইসলামপুরে ঝর্না ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ১ মাসের কারাদণ্ড পুলিশের বিরুদ্ধে গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ ধান কাটার মেশিন ভাড়ায় বাড়তি টাকা, ক্ষোভ কৃষকদের দূর্গম যমুনা চরের কাঁশবন থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

লবণাক্ত জমিতে বোরোর বাম্পার, উদ্বৃত খাদ্যের জেলা বাগেরহাট

আবু হানিফ, বাগেরহাট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উপকূলীয় বাগেরহাট-এ চিংড়ির তীব্র লবণাক্ত জমিতেই এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলায় ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে চাষ করে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪৯ লাখ ১ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন ধান। এর মধ্যে বীজ ও গোখাদ্য বাদ দিয়ে প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে। ফলে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের এই জেলা এখন বোরো ধানেই উদ্বৃত খাদ্য উৎপাদনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

চিংড়ি চাষে রোগবালাই ও ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে লবণ সহিষ্ণু উন্নত জাতের বোরো ধান চাষে ঝুঁকে পড়েন। এতে তাদের মুখে ফিরেছে হাসি। বর্তমানে কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, ব্রি-৬৮, ব্রি-৯২, ব্রি-৯৭, ব্রি-৯৯ ও বিনা-১৯ জাতের ধান চাষে উল্লেখযোগ্য ফলন মিলেছে। আগে লবণাক্ততার কারণে যেখানে চিংড়ি চাষই ছিল প্রধান ভরসা, সেখানে এখন ধান চাষ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

রামপাল উপজেলা ও মোংলা উপজেলা-এর কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষি বিভাগের সহায়তায় উন্নত জাতের বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ পাওয়ায় তারা সফল হয়েছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন আরও বাড়বে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় এ অঞ্চলের মাটি ও পানিতে উচ্চ লবণাক্ততা থাকায় আগে কৃষকরা ধান চাষে অনাগ্রহী ছিলেন। তবে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান চাষে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট এবং উপকরণ সহায়তা দেওয়ায় পরিস্থিতি বদলেছে।

তিনি আরও জানান, এ বছর ৬৭ হাজার ৬২২ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ছাড়িয়ে ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৭ শতাংশ জমিতে লবণ সহিষ্ণু উন্নত জাতের ধান চাষ করায় বাম্পার ফলন এসেছে।

কৃষি বিভাগের আশা, আগামীতে বাগেরহাট-এ এ ধরনের ধান চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং উপকূলীয় কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

লবণাক্ত জমিতে বোরোর বাম্পার, উদ্বৃত খাদ্যের জেলা বাগেরহাট

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

উপকূলীয় বাগেরহাট-এ চিংড়ির তীব্র লবণাক্ত জমিতেই এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলায় ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে চাষ করে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪৯ লাখ ১ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন ধান। এর মধ্যে বীজ ও গোখাদ্য বাদ দিয়ে প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে। ফলে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের এই জেলা এখন বোরো ধানেই উদ্বৃত খাদ্য উৎপাদনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

চিংড়ি চাষে রোগবালাই ও ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে লবণ সহিষ্ণু উন্নত জাতের বোরো ধান চাষে ঝুঁকে পড়েন। এতে তাদের মুখে ফিরেছে হাসি। বর্তমানে কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, ব্রি-৬৮, ব্রি-৯২, ব্রি-৯৭, ব্রি-৯৯ ও বিনা-১৯ জাতের ধান চাষে উল্লেখযোগ্য ফলন মিলেছে। আগে লবণাক্ততার কারণে যেখানে চিংড়ি চাষই ছিল প্রধান ভরসা, সেখানে এখন ধান চাষ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

রামপাল উপজেলা ও মোংলা উপজেলা-এর কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষি বিভাগের সহায়তায় উন্নত জাতের বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ পাওয়ায় তারা সফল হয়েছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন আরও বাড়বে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় এ অঞ্চলের মাটি ও পানিতে উচ্চ লবণাক্ততা থাকায় আগে কৃষকরা ধান চাষে অনাগ্রহী ছিলেন। তবে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান চাষে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট এবং উপকরণ সহায়তা দেওয়ায় পরিস্থিতি বদলেছে।

তিনি আরও জানান, এ বছর ৬৭ হাজার ৬২২ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ছাড়িয়ে ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৭ শতাংশ জমিতে লবণ সহিষ্ণু উন্নত জাতের ধান চাষ করায় বাম্পার ফলন এসেছে।

কৃষি বিভাগের আশা, আগামীতে বাগেরহাট-এ এ ধরনের ধান চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং উপকূলীয় কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।