ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ ট্রাম্পের

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কৌশল জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর ঘোষিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এখন কার্যত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির দিকে মোড় নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও, একই সঙ্গে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। মার্কিন ট্রেজারি সচিব Scott Bessent ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের প্রধান আয়ের উৎস তেল খাতে চাপ বাড়ানোই এই কৌশলের মূল লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, গত এক মাসের সামরিক উত্তেজনার পরও ইরানকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বরং Tehran পরিস্থিতিকে আরও আঞ্চলিক উত্তেজনায় রূপ দিয়েছে। এ অবস্থায় সরাসরি সামরিক হামলার পরিবর্তে অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার পথ বেছে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ইরানের অর্থনীতি মূলত তেলনির্ভর। ফলে তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করা গেলে দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। এ লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ Strait of Hormuz-এ নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে Pakistan-এর মাধ্যমে আলোচনার প্রচেষ্টাও চলছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে বিভাজন তৈরি হয়েছে এবং Islamic Revolutionary Guard Corps-এর ভেতরেও মতপার্থক্য রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

মার্কিন অবরোধের ফলে ইরানি তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জাহাজকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু কার্গো জাহাজ আটকও করা হয়েছে। এর ফলে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র Kharg Island-এ চাপ বাড়ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরানে বর্তমানে প্রায় ৫০–৫৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, যার বড় অংশ ইতোমধ্যে সংরক্ষিত। প্রতিদিন উৎপাদনের তুলনায় বিক্রি কম হওয়ায় উদ্বৃত্ত তেল জমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হলে তেল কূপে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদন পুনরায় শুরু করাকে কঠিন করে তুলবে।

সব মিলিয়ে, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে চাপে রাখার কৌশল এখন পূর্ণমাত্রায় প্রয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ ট্রাম্পের

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কৌশল জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর ঘোষিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এখন কার্যত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির দিকে মোড় নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও, একই সঙ্গে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। মার্কিন ট্রেজারি সচিব Scott Bessent ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের প্রধান আয়ের উৎস তেল খাতে চাপ বাড়ানোই এই কৌশলের মূল লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, গত এক মাসের সামরিক উত্তেজনার পরও ইরানকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বরং Tehran পরিস্থিতিকে আরও আঞ্চলিক উত্তেজনায় রূপ দিয়েছে। এ অবস্থায় সরাসরি সামরিক হামলার পরিবর্তে অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার পথ বেছে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ইরানের অর্থনীতি মূলত তেলনির্ভর। ফলে তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করা গেলে দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। এ লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ Strait of Hormuz-এ নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে Pakistan-এর মাধ্যমে আলোচনার প্রচেষ্টাও চলছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে বিভাজন তৈরি হয়েছে এবং Islamic Revolutionary Guard Corps-এর ভেতরেও মতপার্থক্য রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

মার্কিন অবরোধের ফলে ইরানি তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জাহাজকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু কার্গো জাহাজ আটকও করা হয়েছে। এর ফলে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র Kharg Island-এ চাপ বাড়ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরানে বর্তমানে প্রায় ৫০–৫৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, যার বড় অংশ ইতোমধ্যে সংরক্ষিত। প্রতিদিন উৎপাদনের তুলনায় বিক্রি কম হওয়ায় উদ্বৃত্ত তেল জমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হলে তেল কূপে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদন পুনরায় শুরু করাকে কঠিন করে তুলবে।

সব মিলিয়ে, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে চাপে রাখার কৌশল এখন পূর্ণমাত্রায় প্রয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।