লোডশেডিং ২৫০ মেগাওয়াট ছাড়াল, বন্ধ ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র
রাত বাড়লেই বাড়ছে ভোগান্তি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০২:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে লোডশেডিং ২৫০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। ১৫ এপ্রিল সকাল ও সন্ধ্যার হিসাবেই চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে নগরবাসী, আর রাতে ভোগান্তি বাড়ছে কয়েকগুণ।
চট্টগ্রাম (দক্ষিণাঞ্চল) বিতরণ বিভাগের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে জ্বালানি সংকটে ছয়টি বন্ধ রয়েছে। এতে লোডশেডিং বেড়ে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা, যা বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য কষ্টদায়ক হয়ে উঠছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল সকাল ১১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১,৩৮৪ মেগাওয়াট, যা সন্ধ্যা ৭টায় বেড়ে দাঁড়ায় ১,৪৩২ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াটে। বিপরীতে সরবরাহ ছিল সকাল ১১টায় ১,০৯৫ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ১,৪৭০ মেগাওয়াট। এতে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮১ দশমিক ৮২ মেগাওয়াট।
অন্য হিসাবে দেখা গেছে, মোট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও স্থানীয় চাহিদা মেটাতে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েকটি ইউনিট, রাউজানের দুটি বড় কেন্দ্র এবং জুডিয়াকের একটি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে সচল কেন্দ্রগুলো থেকেও উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় কম।
মাতারবাড়ি, শিকলবাহা ও বাঁশখালীর বড় কেন্দ্রগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য উৎপাদন হলেও সামগ্রিক চাহিদা মেটাতে তা যথেষ্ট নয়। ফলে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
এর প্রভাব পড়েছে নগরজীবনে। চকবাজার, বহদ্দারহাট, পাঁচলাইশ, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়িতে পানির সংকটও দেখা দিয়েছে, কারণ ওয়াসার পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবেও জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম পিডিবির এসসিএডিএ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাসের স্বল্পচাপ ও জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এর মাত্রা পরিবর্তিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম, বরং জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।






















