ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত, দুই বছরে মৃত্যু ৯

শীত মৌসুমে বাড়ছে সংক্রমণ, নেই টিকা

নিজস্ব প্রতিবদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, গত দুই বছরে দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন রোগীর মৃত্যু হয়।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীন।

আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, প্রতি বছর শীত মৌসুমে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা যায়। এটি একটি অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যেখানে আক্রান্তদের প্রায় ৭২ শতাংশের মৃত্যু ঘটে। তার ভাষায়, “নিপাহ ভাইরাসের মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি, যা একে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত করেছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে কাঁচা খেজুরের রস পান নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান উৎস। বাদুড়ের মাধ্যমে দূষিত খেজুরের রস পান করার ফলে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এছাড়া প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

শারমিন সুলতানা আরও জানান, নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে সংক্রমণ হলে রোগীকে মূলত উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে হয়, যা মৃত্যুঝুঁকি কমাতে অনেক সময় যথেষ্ট নয়।

বেশি ঝুঁকিতে যেসব জেলা

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, শনাক্ত হওয়া ৩৫ জেলার মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি।

তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

জনসচেতনতার গুরুত্ব

সভায় নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, কাঁচা খেজুরের রস পান না করা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেনসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

কাঁচা খেজুরের রস পান না করা

আংশিক খাওয়া বা পোকায় কাটা ফল পরিহার করা

ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া

জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যাওয়া

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সাবান ও পানি দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত, দুই বছরে মৃত্যু ৯

শীত মৌসুমে বাড়ছে সংক্রমণ, নেই টিকা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, গত দুই বছরে দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন রোগীর মৃত্যু হয়।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীন।

আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, প্রতি বছর শীত মৌসুমে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা যায়। এটি একটি অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যেখানে আক্রান্তদের প্রায় ৭২ শতাংশের মৃত্যু ঘটে। তার ভাষায়, “নিপাহ ভাইরাসের মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি, যা একে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত করেছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে কাঁচা খেজুরের রস পান নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান উৎস। বাদুড়ের মাধ্যমে দূষিত খেজুরের রস পান করার ফলে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এছাড়া প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

শারমিন সুলতানা আরও জানান, নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে সংক্রমণ হলে রোগীকে মূলত উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে হয়, যা মৃত্যুঝুঁকি কমাতে অনেক সময় যথেষ্ট নয়।

বেশি ঝুঁকিতে যেসব জেলা

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, শনাক্ত হওয়া ৩৫ জেলার মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি।

তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

জনসচেতনতার গুরুত্ব

সভায় নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, কাঁচা খেজুরের রস পান না করা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেনসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

কাঁচা খেজুরের রস পান না করা

আংশিক খাওয়া বা পোকায় কাটা ফল পরিহার করা

ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া

জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যাওয়া

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সাবান ও পানি দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া