ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউরোপের পর তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ গ্রিডে রেকর্ড চাপ রেকর্ডের পর রেকর্ড মেসির, পেলে-মারাদোনাকেও ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস কেন খামেনেইয়ের শেষকৃত্য এত দেরিতে? কোথায় ছিল দেহ? রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতার ইতিহাসেই জন্ম আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সির যশোরে র‍্যাবের অভিযান, উদ্ধার বিরল প্রজাতির ২ তক্ষক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই গণমাধ্যমের মূল শক্তি: তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যম যতবেশি স্বাধীন ও শক্তিশালী হবে, গণতন্ত্রও তত বেশি সুদৃঢ় হবে তিন সন্তানকে রেখে ইমামের সঙ্গে পালালেন প্রবাসীর স্ত্রী ভেনেজুয়ালায় ভূমিকম্প: ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে ৮ দিন বেঁচে ছিলেন হারনান

আদালতকক্ষে বিচারকের সামনেই সাংবাদিককে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০৮ বার পড়া হয়েছে

মারধরের শিকার সময় টিভির প্রতিবেদক আসিফ হোসাইন

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কারাবন্দী সাংবাদিক মনজুরুল আলমের (পান্না) জামিন শুনানিকালে মারধরের শিকার হয়েছেন সময় টিভির প্রতিবেদক আসিফ হোসাইন। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের এজলাসকক্ষে সময় টিভির ওই সাংবাদিককে আইনজীবীরা মারধর করেন।

জানা গেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক মনজুরুল আলমের (পান্না) জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল আজ। লতিফ সিদ্দিকীকে আদালতে হাজির না করলেও সাংবাদিক মনজুরুল আলমকে কারাগার থেকে আদালতকক্ষে তোলা হয়। এজলাসকক্ষে তখন উপস্থিত ছিলেন বাংলা আউট লুকের নির্বাহী সম্পাদক মুক্তাদির রশিদ রোমিও।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নাকে মাথায় হেলমেট, হাতে হ্যান্ডকাফ ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে পুলিশ বাঁশি বাজিয়ে আদালতে হাজির করে। তখন মনজুরুল আলম পান্নাকে বিধ্বস্ত দেখা যায়। এ সময় মনজুরুল আলম পুলিশের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এমন কেন করছেন, আমি তো আপনাদের শত্রু নই?” এ সময় আমি সাংবাদিক পান্নাকে জিজ্ঞেস করি, ভাই, আপনাকে কি জেলের ভেতরে নির্যাতন করা হয়েছে? সাংবাদিক পান্না উত্তর দেন, “না।”’

এসময় আদালতকক্ষে উপস্থিত আইনজীবী মহিউদ্দিন মাহি আমাকে কোর্ট থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য ধমকাতে থাকেন। ‌

এ পর্যায়ে মারধরের শিকার হন জানিয়ে সময় টিভির সাংবাদিক আসিফ হোসাইন বলেন, ‘আমি আইনজীবী মহিউদ্দিন মাহি ভাইকে বলছিলাম, উনি সাংবাদিক। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই আইনজীবী মহিউদ্দিন আমাকে ঘুষি মারেন। তখন আমার হাতে থাকা টেলিভিশনের বুমটি উঁচু করে বিচারকের উদ্দেশে বলতে থাকি, আমাকে মারধর করা হচ্ছে। আমি এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েকজন আইনজীবী আমাকে এলোপাতাড়ি কিল–ঘুষি দিতে থাকেন। তখন আমার দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এজলাসকক্ষে শুনানি চলাকালে সময় টিভির সাংবাদিক আসিফকে মারধরের ঘটনার সঙ্গে বিএনপি কিংবা জামায়াতের কোনো আইনজীবী কিংবা প্রসিকিউশন টিমের কোনো আইনজীবী জড়িত নন। যাঁরা সাংবাদিককে মারধর করেছেন, তাঁরা আসামিপক্ষের আইনজীবী।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তারেক জুবায়ের বলেন, ‘সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নার জামিন শুনানি চলাকালে সময় টিভির যে সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে, তিনি যদি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন, তাহলে অবশ্যই মারধরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিককে মারধর করার ঘটনা শোনার পর আমি ওই আদালতে উপস্থিত হই। আমি দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। এই মারধরের ঘটনার সঙ্গে বিএনপিপন্থী কোনো আইনজীবী জড়িত নন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আদালতকক্ষে বিচারকের সামনেই সাংবাদিককে মারধর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কারাবন্দী সাংবাদিক মনজুরুল আলমের (পান্না) জামিন শুনানিকালে মারধরের শিকার হয়েছেন সময় টিভির প্রতিবেদক আসিফ হোসাইন। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের এজলাসকক্ষে সময় টিভির ওই সাংবাদিককে আইনজীবীরা মারধর করেন।

জানা গেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক মনজুরুল আলমের (পান্না) জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল আজ। লতিফ সিদ্দিকীকে আদালতে হাজির না করলেও সাংবাদিক মনজুরুল আলমকে কারাগার থেকে আদালতকক্ষে তোলা হয়। এজলাসকক্ষে তখন উপস্থিত ছিলেন বাংলা আউট লুকের নির্বাহী সম্পাদক মুক্তাদির রশিদ রোমিও।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নাকে মাথায় হেলমেট, হাতে হ্যান্ডকাফ ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে পুলিশ বাঁশি বাজিয়ে আদালতে হাজির করে। তখন মনজুরুল আলম পান্নাকে বিধ্বস্ত দেখা যায়। এ সময় মনজুরুল আলম পুলিশের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এমন কেন করছেন, আমি তো আপনাদের শত্রু নই?” এ সময় আমি সাংবাদিক পান্নাকে জিজ্ঞেস করি, ভাই, আপনাকে কি জেলের ভেতরে নির্যাতন করা হয়েছে? সাংবাদিক পান্না উত্তর দেন, “না।”’

এসময় আদালতকক্ষে উপস্থিত আইনজীবী মহিউদ্দিন মাহি আমাকে কোর্ট থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য ধমকাতে থাকেন। ‌

এ পর্যায়ে মারধরের শিকার হন জানিয়ে সময় টিভির সাংবাদিক আসিফ হোসাইন বলেন, ‘আমি আইনজীবী মহিউদ্দিন মাহি ভাইকে বলছিলাম, উনি সাংবাদিক। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই আইনজীবী মহিউদ্দিন আমাকে ঘুষি মারেন। তখন আমার হাতে থাকা টেলিভিশনের বুমটি উঁচু করে বিচারকের উদ্দেশে বলতে থাকি, আমাকে মারধর করা হচ্ছে। আমি এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েকজন আইনজীবী আমাকে এলোপাতাড়ি কিল–ঘুষি দিতে থাকেন। তখন আমার দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এজলাসকক্ষে শুনানি চলাকালে সময় টিভির সাংবাদিক আসিফকে মারধরের ঘটনার সঙ্গে বিএনপি কিংবা জামায়াতের কোনো আইনজীবী কিংবা প্রসিকিউশন টিমের কোনো আইনজীবী জড়িত নন। যাঁরা সাংবাদিককে মারধর করেছেন, তাঁরা আসামিপক্ষের আইনজীবী।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তারেক জুবায়ের বলেন, ‘সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নার জামিন শুনানি চলাকালে সময় টিভির যে সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে, তিনি যদি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন, তাহলে অবশ্যই মারধরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিককে মারধর করার ঘটনা শোনার পর আমি ওই আদালতে উপস্থিত হই। আমি দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। এই মারধরের ঘটনার সঙ্গে বিএনপিপন্থী কোনো আইনজীবী জড়িত নন।