ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার বর্জ্য অপসারণে গাফিলতি, দুই সিটির দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক শরণখোলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বিএনপি নেতার মৃত্যু রাজধানীর বর্জ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গাড়ি চালিয়ে ঘুরলেন প্রধানমন্ত্রী চামড়ার বাজারে ধস, ছাগলের চামড়ায় মিলছে না রিকশা ভাড়াও টাঙ্গাইল শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে মাঠে প্রতিমন্ত্রী টুকু মুষলধারে বৃষ্টিতে স্বস্তি, তবু জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি রাজশাহীতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু: দায়ীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ হাজার ছাড়াল

পাবনায় ঈদের দিনে দানের মাংস বিক্রির৷ জমজমাট হাট : কেজি প্রতি ৪৫০ টাকা 

পাবনা প্রতিনিধি 
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫১:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রতি বছরের মতো এবারও গড়ে ওঠে এক বিশেষ অস্থায়ী বাজার যেখানে বিক্রি হয় কোরবানির অতিরিক্ত বা দানের মাংস। ঈদের দিন বিকেল থেকেই শহরের রেলগেট, ফকিরের বটতলা ও স্টেশন এলাকার আশপাশে এই বেচাকেনা জমে ওঠে। এখানে মাংসের দাম থাকে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের দিন যারা কোরবানির পর মাংস বেশি পান কিংবা যারা একদিনের জন্য কসাইয়ের কাজ করেন, তারা অতিরিক্ত মাংস এখানে এনে বিক্রি করেন। আবার অনেকের ঘরে ফ্রিজ বা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় তারাও বাধ্য হয়ে মাংস বিক্রি করে দেন।

রেলগেট এলাকায় মাংস বিক্রি করতে আসা আনিসুর রহমান জানান, তিনি সারাদিন কসাইয়ের কাজ করে প্রায় তিন কেজি মাংস পেয়েছেন। এর মধ্যে দুই কেজি বিক্রি করে দেন এবং এক কেজি পরিবারের জন্য রাখেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই কেজি মাংস তিনি প্রায় ১২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।

আরেক কসাই আতিয়ার রহমান জানান, তিনি তিন কেজি মাংস এনেছিলেন এবং কেজিপ্রতি ৫৫০ টাকার মতো দরে বিক্রি করেছেন। দরদাম করলে আরও কিছুটা বেশি দাম পাওয়া যেত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ফকিরের বটতলায় মাংস বিক্রি করতে আসা আছিয়া বেগম বলেন, তিনি কয়েক কেজি মাংস সংগ্রহ করেছিলেন, যার মধ্যে কিছু অংশ নিজের জন্য রেখে বাকিটা বিক্রি করতে এনেছেন। তার মতে, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এ ছাড়া উপায়ও ছিল না।

অন্যদিকে কম দামে মাংস কিনতে আসা অটোরিকশা চালক আনিসুর রহমান জানান, বাজারে যেখানে মাংস ৭০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়, সেখানে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় পাওয়া যাওয়ায় তিনি এখানে কেনাকাটা করছেন।

স্থানীয়দের মতে, ঈদের দিন মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য গড়ে ওঠা এই অস্থায়ী বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই মূলত নিম্ন আয়ের মানুষ। ফলে একদিকে যেমন অতিরিক্ত মাংস নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়, অন্যদিকে দরিদ্র মানুষ তুলনামূলক কম দামে মাংস কিনে উপকৃত হন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে ঈদের দিনে শহরের এসব জায়গায় এমন অস্থায়ী বেচাকেনা চললেও এটি এখন একটি স্বাভাবিক সামাজিক প্রথায় পরিণত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পাবনায় ঈদের দিনে দানের মাংস বিক্রির৷ জমজমাট হাট : কেজি প্রতি ৪৫০ টাকা 

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫১:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রতি বছরের মতো এবারও গড়ে ওঠে এক বিশেষ অস্থায়ী বাজার যেখানে বিক্রি হয় কোরবানির অতিরিক্ত বা দানের মাংস। ঈদের দিন বিকেল থেকেই শহরের রেলগেট, ফকিরের বটতলা ও স্টেশন এলাকার আশপাশে এই বেচাকেনা জমে ওঠে। এখানে মাংসের দাম থাকে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের দিন যারা কোরবানির পর মাংস বেশি পান কিংবা যারা একদিনের জন্য কসাইয়ের কাজ করেন, তারা অতিরিক্ত মাংস এখানে এনে বিক্রি করেন। আবার অনেকের ঘরে ফ্রিজ বা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় তারাও বাধ্য হয়ে মাংস বিক্রি করে দেন।

রেলগেট এলাকায় মাংস বিক্রি করতে আসা আনিসুর রহমান জানান, তিনি সারাদিন কসাইয়ের কাজ করে প্রায় তিন কেজি মাংস পেয়েছেন। এর মধ্যে দুই কেজি বিক্রি করে দেন এবং এক কেজি পরিবারের জন্য রাখেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই কেজি মাংস তিনি প্রায় ১২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।

আরেক কসাই আতিয়ার রহমান জানান, তিনি তিন কেজি মাংস এনেছিলেন এবং কেজিপ্রতি ৫৫০ টাকার মতো দরে বিক্রি করেছেন। দরদাম করলে আরও কিছুটা বেশি দাম পাওয়া যেত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ফকিরের বটতলায় মাংস বিক্রি করতে আসা আছিয়া বেগম বলেন, তিনি কয়েক কেজি মাংস সংগ্রহ করেছিলেন, যার মধ্যে কিছু অংশ নিজের জন্য রেখে বাকিটা বিক্রি করতে এনেছেন। তার মতে, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এ ছাড়া উপায়ও ছিল না।

অন্যদিকে কম দামে মাংস কিনতে আসা অটোরিকশা চালক আনিসুর রহমান জানান, বাজারে যেখানে মাংস ৭০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়, সেখানে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় পাওয়া যাওয়ায় তিনি এখানে কেনাকাটা করছেন।

স্থানীয়দের মতে, ঈদের দিন মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য গড়ে ওঠা এই অস্থায়ী বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই মূলত নিম্ন আয়ের মানুষ। ফলে একদিকে যেমন অতিরিক্ত মাংস নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়, অন্যদিকে দরিদ্র মানুষ তুলনামূলক কম দামে মাংস কিনে উপকৃত হন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে ঈদের দিনে শহরের এসব জায়গায় এমন অস্থায়ী বেচাকেনা চললেও এটি এখন একটি স্বাভাবিক সামাজিক প্রথায় পরিণত হয়েছে।