ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নে কাজ চলছে: প্রধানমন্ত্রী তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন হবে: মাহদী আমিন মানব পাচার ও চোরাচালান দমনে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই গণহত্যায় জড়িত কাউকে ছাড় নয়: চিফ প্রসিকিউটর দেশকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে সবার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান চার বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসছে ভারতীয় দল জব্দ পাথর নিয়ে ইউএনও’র লুকোচুরি ব্রাজিলের চিনির চুক্তি ভেঙে লন্ডনে ধরা খেল এস আলম, দিতে হবে ২৫ কোটির ক্ষতিপূরণ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ীই হবে: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মাতব্বরদের কেরামতি, চৌকিদার দিয়ে ধরে এনে গাছে বেঁধে নির্যাতন

রংপুর প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুরের মিঠাপুকুরে চোরের অপবাদ দিয়ে রাজু নামে (১৭) এক কিশোরকে বাস থেকে চৌকিদার দিয়ে ধরে এনে হাত ও শরীরে রশি দিয়ে আম গাছের সাথে বেঁধে মধ্যযুগীয় কাদায় নির্যাতন করেছে কথিত মাতব্বররা।

ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গামতি গ্রামে। তার বার নাম সাহেব আলী। খবর পেয়ে পুলিশে এসে তাকে গুরতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন মিঠাপুকুর থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ। ঘটনাটি শনিবার (১৯ অক্টোব) ঘটলেও নির্যাতনের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় পুরো মিঠাপুকুর উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ প্রত্যাক্ষদর্শী ও ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, কিশোর রাজুকে একটি আম গাছের সাথে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় বেধড়ক পেটাচ্ছেন কিছু লোকজন। সেখানে দুইজন গ্রাম পুলিশকেও দেখা যায়। কিশোরের হাত ও ঘাড়ে রশি দিয়ে বাঁধা থাকলেও কোনরকম বাঁধা দেয়নি গ্রাম পুলিশরা বরং তাদের কিশোরটিকে নির্যাতনে সহায়তা করতেও দেখা গেছে।

এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার কিশোর রাজু (১৭) পড়ালেখা বাদ দিয়ে তার বাবার সাথে কৃষি কাজ করে। প্রতিবেশী এক মেয়ের সাথে অতিসম্প্রতি তাদের প্রেমের সম্পর্ক ওঠে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিলো। এর জের ধরে গত শনিবার দুপুরে রাজুকে গ্রাম্য পুলিশের দুই সদস্যদের সহায়তায় বাসা থেকে ধরে আনে মেয়ের বাড়ির লোকজন। এরপর তারা কিশোর রাজুকে তাদের বাড়ির আঙিনায় আমগাছের সাথে রশি দিয়ে শক্তভাবে বেঁধে ফেলে।

একপর্যায়ে এলাকার আবদুল খালেক, করিম মিয়া, রবিউল, সেহেরুল , মো স্তফা, আনোয়ারুল , রউফ, তালেব, কুদ্দুস, মিজানসহ ১৫ থেকে ২০ জন লাঠি দিয়ে ও হাত দিয়ে কিল ঘুষি লাথ্থিসহ অমানবিক নির্যাতন করে। কিশোর রাজু এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও তাকে নির্যাতন অব্যাহত রাখে।

এদিকে, কিশোর রাজুকে নির্যাতন করলে সে গুরতর অসুস্থ হয়ে পড়লে মিঠাপুকুর থানা ও ৯৯৯-এ ফোন করে জানায় তারা এক চোরকে হাতে নাতে আটক করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে কিশোর রাজুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় কিশোর রাজুর রাজুর বাবা সাহেব আলী জানান, তার ছেলের কোন দোষ নেই। মেয়ে পক্ষের লোকজন অন্যায়ভাবে তার ছেলেকে খুব মেরেছে। তিনি এ ঘটনার ন্যায্য বিচার দাবি করেছেন। রাজুর ৮০ বছর বয়সী দাদি রেজিয়া বেগম জানান তার নাতীকে হাত পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মহিলা জানান, ছেলেটার কোনো দোষ নেই। তিনি শুনেছেন মেয়েটির সাথে কিশোরের ভালোবাসার সর্ম্পক ছিল। এ অপরাধে তাকে ধরে নিয়ে মারধর করেছে।

স্থানীয়রা জানান, মেয়েটির বাবা গায়ের জোরে লোকজন ভাড়া করে ছেলেটিকে ধরে খুব মারপিট করেছে। তারা গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে।

এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা হাফিজুর রহমান জানান, তার মেয়েকে বারবার বিরক্ত করে আসছিল ছেলেটি। তাই তাকে ধরে শাসন করেছেন তিনি। অপরাধ করে থাকলে আইনের সহযোগিতা না নিয়ে গাছের সাথে বেঁধে মারধরের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, তিনি কোনও জবাব দেননি।

এ ব্যাপারে মিঠাপুকুর থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদের সাথে সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, থানায় ও ৯৯৯-এ ফোন করে বলা হয় চুরি করার অপরাধে একজনকে আটক করে রাখা হয়েছে। এমনি খবরের উপর ভিত্তি করে পুলিশ সেখানে গিয়ে কিশোর রাজুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া হয়। এ ব্যাপারে নির্যাতনকারীরা কোন মামলা করবে না জানালে কিশোর রাজুকে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৫১ ধারায় আদালতে চালান দেয়া হয়। তবে কিশোর রাজুকে এভাবে নির্যাতন করা ঠিক হয়নি এটা বেআইনী হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে তারা আইনগত ব্যাবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মাতব্বরদের কেরামতি, চৌকিদার দিয়ে ধরে এনে গাছে বেঁধে নির্যাতন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪

রংপুরের মিঠাপুকুরে চোরের অপবাদ দিয়ে রাজু নামে (১৭) এক কিশোরকে বাস থেকে চৌকিদার দিয়ে ধরে এনে হাত ও শরীরে রশি দিয়ে আম গাছের সাথে বেঁধে মধ্যযুগীয় কাদায় নির্যাতন করেছে কথিত মাতব্বররা।

ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গামতি গ্রামে। তার বার নাম সাহেব আলী। খবর পেয়ে পুলিশে এসে তাকে গুরতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন মিঠাপুকুর থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ। ঘটনাটি শনিবার (১৯ অক্টোব) ঘটলেও নির্যাতনের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় পুরো মিঠাপুকুর উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ প্রত্যাক্ষদর্শী ও ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, কিশোর রাজুকে একটি আম গাছের সাথে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় বেধড়ক পেটাচ্ছেন কিছু লোকজন। সেখানে দুইজন গ্রাম পুলিশকেও দেখা যায়। কিশোরের হাত ও ঘাড়ে রশি দিয়ে বাঁধা থাকলেও কোনরকম বাঁধা দেয়নি গ্রাম পুলিশরা বরং তাদের কিশোরটিকে নির্যাতনে সহায়তা করতেও দেখা গেছে।

এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার কিশোর রাজু (১৭) পড়ালেখা বাদ দিয়ে তার বাবার সাথে কৃষি কাজ করে। প্রতিবেশী এক মেয়ের সাথে অতিসম্প্রতি তাদের প্রেমের সম্পর্ক ওঠে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিলো। এর জের ধরে গত শনিবার দুপুরে রাজুকে গ্রাম্য পুলিশের দুই সদস্যদের সহায়তায় বাসা থেকে ধরে আনে মেয়ের বাড়ির লোকজন। এরপর তারা কিশোর রাজুকে তাদের বাড়ির আঙিনায় আমগাছের সাথে রশি দিয়ে শক্তভাবে বেঁধে ফেলে।

একপর্যায়ে এলাকার আবদুল খালেক, করিম মিয়া, রবিউল, সেহেরুল , মো স্তফা, আনোয়ারুল , রউফ, তালেব, কুদ্দুস, মিজানসহ ১৫ থেকে ২০ জন লাঠি দিয়ে ও হাত দিয়ে কিল ঘুষি লাথ্থিসহ অমানবিক নির্যাতন করে। কিশোর রাজু এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও তাকে নির্যাতন অব্যাহত রাখে।

এদিকে, কিশোর রাজুকে নির্যাতন করলে সে গুরতর অসুস্থ হয়ে পড়লে মিঠাপুকুর থানা ও ৯৯৯-এ ফোন করে জানায় তারা এক চোরকে হাতে নাতে আটক করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে কিশোর রাজুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় কিশোর রাজুর রাজুর বাবা সাহেব আলী জানান, তার ছেলের কোন দোষ নেই। মেয়ে পক্ষের লোকজন অন্যায়ভাবে তার ছেলেকে খুব মেরেছে। তিনি এ ঘটনার ন্যায্য বিচার দাবি করেছেন। রাজুর ৮০ বছর বয়সী দাদি রেজিয়া বেগম জানান তার নাতীকে হাত পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মহিলা জানান, ছেলেটার কোনো দোষ নেই। তিনি শুনেছেন মেয়েটির সাথে কিশোরের ভালোবাসার সর্ম্পক ছিল। এ অপরাধে তাকে ধরে নিয়ে মারধর করেছে।

স্থানীয়রা জানান, মেয়েটির বাবা গায়ের জোরে লোকজন ভাড়া করে ছেলেটিকে ধরে খুব মারপিট করেছে। তারা গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে।

এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা হাফিজুর রহমান জানান, তার মেয়েকে বারবার বিরক্ত করে আসছিল ছেলেটি। তাই তাকে ধরে শাসন করেছেন তিনি। অপরাধ করে থাকলে আইনের সহযোগিতা না নিয়ে গাছের সাথে বেঁধে মারধরের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, তিনি কোনও জবাব দেননি।

এ ব্যাপারে মিঠাপুকুর থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদের সাথে সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, থানায় ও ৯৯৯-এ ফোন করে বলা হয় চুরি করার অপরাধে একজনকে আটক করে রাখা হয়েছে। এমনি খবরের উপর ভিত্তি করে পুলিশ সেখানে গিয়ে কিশোর রাজুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া হয়। এ ব্যাপারে নির্যাতনকারীরা কোন মামলা করবে না জানালে কিশোর রাজুকে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৫১ ধারায় আদালতে চালান দেয়া হয়। তবে কিশোর রাজুকে এভাবে নির্যাতন করা ঠিক হয়নি এটা বেআইনী হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে তারা আইনগত ব্যাবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।