ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

‘২ কোটি রেডি রাখবেন’ হুমকির পরই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুই কোটি টাকা এককালীন এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির দুই দিনের মাথায় চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চন্দনপুরা এলাকার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কলরেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নিজেদের পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

চাঁদা দাবির দুই দিন পর হামলা
ডিডিএনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, হামলার দুই দিন আগে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে ফোন করে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি পূরণ না হলে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

cc
ডেভিড ইমন ওরফে মোবারক হোসেন ইমন বাকলিয়া এলাকার আলোচিত জোড়া খুন ও ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।

সোমবার দুপুরে কিরিচ, চাইনিজ কুড়াল, ছুরিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল ব্যক্তি হঠাৎ কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। তারা প্রথমে কর্মীদের অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলে, অন্যথায় হামলার হুমকি দেয়। এরপর অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর চালায়।

বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট
আতিকুর রহমান বলেন, সোমবার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন দেওয়ার কথা ছিল। সে কারণে হিসাব বিভাগে ৩৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছিল। হামলাকারীরা ওই টাকা নিয়ে যায়।

তিনি জানান, কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ পর্যন্ত ৩৪ জন হামলাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে হামলার সময় সবার মুখে মাস্ক ছিল।

হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর হোসেন মামুন।

ভাইরাল কলরেকর্ডে চাঁদার আলটিমেটাম
এদিকে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের কলরেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। +৯৭১৫৬৮৬৩৮৩৮৫ নম্বর থেকে আসা ওই কলে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া একজন ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুনকে বলতে শোনা যায়, ‘এককালীন ২ কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে।’

একই কলরেকর্ডে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস কইরেন। পুলিশ কমিশনারকে আমার নাম্বারটা দেখাইয়েন, আপনি না চিনলে। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করবো। আপনারা করিয়েন না। স্মার্ট গ্রুপের মুজিপ্যার (মুজিবের) ঘরে তো কী হইছে এটা তো দেখছেন। মুজিপ্যা থেকে গিয়ে আমার কথা জিজ্ঞেস কইরেন।’

ফোনে ওই সন্ত্রাসী আরও বলেন, ‘সবাই আমাদের সাথে সমন্বয় করে বিজনেস করতেছে। অক্সিজেন বলেন, হাটহাজারী বলেন, বায়েজিদ বলেন, মুরাদপুর বলেন, দুই নম্বর গেইট বলেন সবাই আমাদের সাথে সমন্বয় করে ব্যবসা করতেছে।’ পাশাপাশি ডিডিএন মালিককে দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়ে বলা হয়, ‘দুই দিনের মধ্যে ব্যবসাবাণিজ্য গোছায় ফেলবেন।’

কলরেকর্ডের শেষ দিকে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ব্যবসা যদি করতে চান, তাহলে ২ কোটি টাকা রেডি রাখবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ করে দিবেন। তাহলে চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসা করতে পারবেন, নাইলে পারবেন না। আপনার বায়োডাটা সবকিছু আমার জানা আছে। দুই দিন পরে দেখবেন কী হয়।’

ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে সাত মামলা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমন ওরফে মোবারক হোসেন ইমন বাকলিয়া এলাকার আলোচিত জোড়া খুন ও ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামের অপরাধজগতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেভিড ইমন ও রাউজানের রায়হান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘২ কোটি রেডি রাখবেন’ হুমকির পরই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

দুই কোটি টাকা এককালীন এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির দুই দিনের মাথায় চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চন্দনপুরা এলাকার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কলরেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নিজেদের পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

চাঁদা দাবির দুই দিন পর হামলা
ডিডিএনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, হামলার দুই দিন আগে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে ফোন করে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি পূরণ না হলে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

cc
ডেভিড ইমন ওরফে মোবারক হোসেন ইমন বাকলিয়া এলাকার আলোচিত জোড়া খুন ও ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।

সোমবার দুপুরে কিরিচ, চাইনিজ কুড়াল, ছুরিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল ব্যক্তি হঠাৎ কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। তারা প্রথমে কর্মীদের অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলে, অন্যথায় হামলার হুমকি দেয়। এরপর অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর চালায়।

বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট
আতিকুর রহমান বলেন, সোমবার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন দেওয়ার কথা ছিল। সে কারণে হিসাব বিভাগে ৩৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছিল। হামলাকারীরা ওই টাকা নিয়ে যায়।

তিনি জানান, কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ পর্যন্ত ৩৪ জন হামলাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে হামলার সময় সবার মুখে মাস্ক ছিল।

হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর হোসেন মামুন।

ভাইরাল কলরেকর্ডে চাঁদার আলটিমেটাম
এদিকে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের কলরেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। +৯৭১৫৬৮৬৩৮৩৮৫ নম্বর থেকে আসা ওই কলে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া একজন ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুনকে বলতে শোনা যায়, ‘এককালীন ২ কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে।’

একই কলরেকর্ডে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস কইরেন। পুলিশ কমিশনারকে আমার নাম্বারটা দেখাইয়েন, আপনি না চিনলে। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করবো। আপনারা করিয়েন না। স্মার্ট গ্রুপের মুজিপ্যার (মুজিবের) ঘরে তো কী হইছে এটা তো দেখছেন। মুজিপ্যা থেকে গিয়ে আমার কথা জিজ্ঞেস কইরেন।’

ফোনে ওই সন্ত্রাসী আরও বলেন, ‘সবাই আমাদের সাথে সমন্বয় করে বিজনেস করতেছে। অক্সিজেন বলেন, হাটহাজারী বলেন, বায়েজিদ বলেন, মুরাদপুর বলেন, দুই নম্বর গেইট বলেন সবাই আমাদের সাথে সমন্বয় করে ব্যবসা করতেছে।’ পাশাপাশি ডিডিএন মালিককে দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়ে বলা হয়, ‘দুই দিনের মধ্যে ব্যবসাবাণিজ্য গোছায় ফেলবেন।’

কলরেকর্ডের শেষ দিকে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ব্যবসা যদি করতে চান, তাহলে ২ কোটি টাকা রেডি রাখবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ করে দিবেন। তাহলে চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসা করতে পারবেন, নাইলে পারবেন না। আপনার বায়োডাটা সবকিছু আমার জানা আছে। দুই দিন পরে দেখবেন কী হয়।’

ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে সাত মামলা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমন ওরফে মোবারক হোসেন ইমন বাকলিয়া এলাকার আলোচিত জোড়া খুন ও ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামের অপরাধজগতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেভিড ইমন ও রাউজানের রায়হান।