বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নতুন করে বন্যার শঙ্কা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় আগের বন্যার পানি পুরোপুরি না নামতেই নতুন করে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। কোথাও কোথাও নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, ফলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যার ক্ষত এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই থেমে থেমে বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রাথমিক হিসাবে, শুধু মৎস্য খাতেই ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি আবারও বেড়েছে। এতে শক্তিয়ারখলা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদর ও তাহিরপুর উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মৌলভীবাজারে নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নামায় সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রাজনগর উপজেলার অন্তত আট থেকে ১০টি গ্রাম এখনো পানিবন্দি রয়েছে। ধীরগতিতে পানি নামায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বসতঘর ও কৃষিজমি নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নেত্রকোণায় উপদাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে আমনের বীজতলা প্রস্তুত ও বীজ বপনের কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা বেড়েছে। লালমনিরহাটে ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা শহরেও বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।




















