ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্দেশে দগ্ধদের খোঁজ নিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা বিশ্বনেতাদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি ‘২ কোটি রেডি রাখবেন’ হুমকির পরই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নতুন করে বন্যার শঙ্কা বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল ইজতেমা ময়দানে রক্তক্ষয়ী হামলা: নেপথ্যে বিপিসি চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান শেখ হাসিনাকে কারাগারে যেতেই হবে বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত দিন বরিশালের সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করলেন প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড ও সবুজায়নের বার্তা, উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশায় বরিশাল

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বন্যাকবলিত ১১ জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১ জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রতিটি জেলার তদারকির দায়িত্ব একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতিও রয়েছে। জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং দুর্গম এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্যাকালে সাপের উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কায় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাপে কামড়ের শিকার ব্যক্তিকে ওঝার কাছে না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিভিল সার্জনদেরও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত স্যালাইন, ওআরএস, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রয়েছে। দূষিত পানির কারণে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম কেন্দ্রীয়ভাবে এবং জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল মজুত রয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ১৬২৬৩, ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন’ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি কন্ট্রোল রুম ০১৭৫৯-১১৪৪৮৮-এর মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, পরামর্শ প্রদান এবং ডেঙ্গুসহ সংক্রামক রোগের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

দেশের বন্যাকবলিত ১১ জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১ জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রতিটি জেলার তদারকির দায়িত্ব একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতিও রয়েছে। জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং দুর্গম এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্যাকালে সাপের উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কায় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাপে কামড়ের শিকার ব্যক্তিকে ওঝার কাছে না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিভিল সার্জনদেরও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত স্যালাইন, ওআরএস, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রয়েছে। দূষিত পানির কারণে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম কেন্দ্রীয়ভাবে এবং জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল মজুত রয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ১৬২৬৩, ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন’ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি কন্ট্রোল রুম ০১৭৫৯-১১৪৪৮৮-এর মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, পরামর্শ প্রদান এবং ডেঙ্গুসহ সংক্রামক রোগের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।