সেনা মহড়া পরিদর্শন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও বৃক্ষরোপণে উন্নয়নের বার্তা
বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত দিন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বরিশাল সফরে এসে নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন, সুবিধাভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে তিনি উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রত্যাশাও জোরালো হয়েছে।
সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর
সোমবার সকালে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই আস্থা ধরে রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, জঙ্গলে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি এবং অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কথা বলেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন।
৪১ লাখ পরিবার পাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড
গৌরনদী উপজেলায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবারের নারী প্রধানদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে চার কোটি পরিবারের নারী সদস্যদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী করা।
বৃক্ষরোপণে সবুজ বাংলাদেশের আহ্বান
গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালের তীর এবং পরে বরিশাল নগরের সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন।
তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রতিটি চারার পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। শিশু যেমন যত্নে বড় হয়, তেমনি চারাগাছকেও নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। খাল ও নদীর তীরজুড়ে বৃক্ষরোপণ ভাঙন রোধের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নগরীর তাপমাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আশা জোরালো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবির মধ্যে রয়েছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা, বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং শিল্পায়নের গতি বাড়ানো।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এসব দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রত্যাশা, এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং যোগাযোগ, জ্বালানি, পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন চাহিদা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপের সূচনা হবে।




















