ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আসামির পরিবারের কাছে কোটি টাকা দাবি, দেশ ছাড়লেন বরখাস্ত প্রসিকিউটর রেজা সরকারকে কড়া বার্তা শফিকুর রহমানের ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, এক লাখ টাকা নেয়ার সময় আটক সার্ভেয়ার শপথ নিলেন মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান হাসিনা- কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ কার্যকরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল: তথ্য উপদেষ্টা জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় বাড়ল, পরবর্তী তারিখ ৭ ডিসেম্বর কারখানা বন্ধের চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি ঘিরে সংবর্ধনা

সরকারকে কড়া বার্তা শফিকুর রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তির প্রতিবাদ করতে গিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাবরণ করতে হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান যেভাবে লড়াই করেছেন, জামায়াতও একই পথে এগোবে। অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠ দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, তাঁর গ্রেপ্তারের পর বিমানবন্দরের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ট্রলির সংকটের বিষয়টি সামনে আসার পর দুই দফায় ৩০০টি নতুন ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। লাগেজ কাটা ও চুরির অভিযোগের পর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরাও সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীরা লাগেজ পাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরা সভা-সমাবেশ, মিছিল করেছেন, এমনকি দূতাবাস ঘেরাও করেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের স্বার্থে আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।

তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও জামিন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মিথ্যা মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তাঁকে হাইকোর্টে যেতে হয়েছে। হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে গেছে। এ ধরনের ঘটনা সরকারের জন্য লজ্জাজনক।

সরকারের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা আড়াল করতে বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, বিরোধী দলের চরিত্র হননের চেষ্টা না করে সরকারের উচিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে মনোযোগ দেওয়া।

সংবর্ধনায় আখতারুজ্জামান বলেন, কারাগারে যাওয়া তাঁর কাছে অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে তাঁর কারাবরণের মধ্য দিয়ে সরকারের ভেতরের চিত্র ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সরকার আক্রোশের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলে দাবি করলেও প্রবাসীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে দুর্ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির প্রতিবাদ করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আখতারুজ্জামান আরও বলেন, নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে যায়। এভাবে দেশ পরিচালনা করলে মানুষ তা মেনে নেবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁরা রুখে দাঁড়াবেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়েও ভাবতে হবে।

যে ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আখতারুজ্জামান

গত ১ অক্টোবর সকালে মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্রলির সংকট ও জমজমের পানি পেতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা এবং এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।

পরদিন ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর সেনানিবাস এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে দায়রা আদালতেও জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। ১ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি ঘিরে সংবর্ধনা

সরকারকে কড়া বার্তা শফিকুর রহমানের

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তির প্রতিবাদ করতে গিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাবরণ করতে হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান যেভাবে লড়াই করেছেন, জামায়াতও একই পথে এগোবে। অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠ দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, তাঁর গ্রেপ্তারের পর বিমানবন্দরের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ট্রলির সংকটের বিষয়টি সামনে আসার পর দুই দফায় ৩০০টি নতুন ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। লাগেজ কাটা ও চুরির অভিযোগের পর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরাও সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীরা লাগেজ পাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরা সভা-সমাবেশ, মিছিল করেছেন, এমনকি দূতাবাস ঘেরাও করেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের স্বার্থে আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।

তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও জামিন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মিথ্যা মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তাঁকে হাইকোর্টে যেতে হয়েছে। হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে গেছে। এ ধরনের ঘটনা সরকারের জন্য লজ্জাজনক।

সরকারের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা আড়াল করতে বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, বিরোধী দলের চরিত্র হননের চেষ্টা না করে সরকারের উচিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে মনোযোগ দেওয়া।

সংবর্ধনায় আখতারুজ্জামান বলেন, কারাগারে যাওয়া তাঁর কাছে অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে তাঁর কারাবরণের মধ্য দিয়ে সরকারের ভেতরের চিত্র ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সরকার আক্রোশের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলে দাবি করলেও প্রবাসীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে দুর্ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির প্রতিবাদ করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আখতারুজ্জামান আরও বলেন, নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে যায়। এভাবে দেশ পরিচালনা করলে মানুষ তা মেনে নেবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁরা রুখে দাঁড়াবেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়েও ভাবতে হবে।

যে ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আখতারুজ্জামান

গত ১ অক্টোবর সকালে মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্রলির সংকট ও জমজমের পানি পেতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা এবং এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।

পরদিন ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর সেনানিবাস এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে দায়রা আদালতেও জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। ১ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।