সরকারি ওষুধ নদীতে ফেলার সময় আটক, চালকের বিরুদ্ধেই চুরির মামলা!

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:২২:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক পিকআপভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে পিকআপচালক আজমতের বিরুদ্ধে চুরির মামলা হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে শ্রমিকদের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল বাদী হয়ে মামলাটি করেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে আজমতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে চালকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও মূল অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে—এমন অভিযোগ তুলে শুক্রবার সকালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল খাদ্যগুদামের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ ও অবরোধের পর মিছিল নিয়ে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। এ সময় চালকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও তার মুক্তির দাবি জানান তারা।
ঘাটাইল উপজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মুকুলের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লোকজনই পিকআপটি ভাড়া করেছিলেন। হাসপাতালের কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকারি ওষুধ বিতরণ না করে মজুত রেখে মেয়াদোত্তীর্ণ করেছেন এবং পরে সেগুলো নদীতে ফেলার পরিকল্পনা করেন। তার দাবি, চালক একজন ভাড়ায় গাড়ি চালানো শ্রমিক; ওষুধের বিষয়ে তার কোনো দায় নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি ওষুধ কীভাবে দীর্ঘদিন মজুত থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হলো এবং সেগুলো নদীতে ফেলার সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, মূল ব্যক্তিদের আড়াল করে চালককে মামলায় জড়ানো হচ্ছে।
গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিকআপভর্তি সরকারি ওষুধ ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে ফেলার সময় স্থানীয়রা গাড়িটি আটক করেন। পরে চালককে আটক করে পিকআপ ও ওষুধসহ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।























