তিব্বতে হ্রদের বাঁধ ভেঙে ফের হড়পা বানের শঙ্কা নেপালে

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:০৬:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই শুক্রবার চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আর এর পরপরই তিব্বতে হিমবাহের কারণে তৈরি একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে।
এ ঘটনায় উত্তর নেপালে ফের আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সতর্কতা অনুযায়ী, আগামী আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে পাহাড়ি ঢল নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রাসুয়া ও ধাদিং জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে উদ্ধার তৎপরতাও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
শুক্রবার চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচুয়ান অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তখন সময় ছিল সকাল ১০টা ৪৩ মিনিট। চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টারের (CENC) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার গভীরে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
তবে ভূমিকম্পের পর তিব্বতে হিমবাহের কারণে তৈরি একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। ভূমিকম্পের কম্পনে বাঁধটি ভেঙেছে, নাকি আগের বিপর্যয়ের পর তৈরি হওয়া অস্থায়ী হ্রদে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাঁধ ভেঙেছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আগে থেকেই ছিল নতুন বন্যার সতর্কতা
এর আগেই নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নতুন একটি হিমবাহ হ্রদ নিয়ে সতর্ক করেছিল চীন। বৃহস্পতিবার চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে হিমবাহের কারণে একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল। পানি উপচে পড়াও শুরু হয়েছিল। আশঙ্কা করা হয়েছিল, পরবর্তী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে। এতে অস্থায়ী বাঁধের ওপর চাপ বেড়ে গিয়ে হ্রদটি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
চীনের পক্ষ থেকে তখন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য প্লাবনের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
উদ্ধার অভিযানেও ধাক্কা
বুধবারের ভয়াবহ বিপর্যয়ে নেপালের একাধিক এলাকায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর উদ্ধারকারীরা যখন নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছিলেন, তখনই সামনে এসেছে নতুন এই বিপদের খবর।
ফলে রাসুয়া ও ধাদিং এলাকায় সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন ঢলের আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
একদিকে আগের বন্যা ও ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপ, অন্যদিকে নতুন হিমবাহ হ্রদ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে নেপালের উত্তরাঞ্চলে দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।




















