ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হকারদের জন্য নতুন নীতিমালা, কোথায় বসবেন আর মাসে কত টাকা দেবেন? গুলির নির্দেশদাতা ম্যাজিস্ট্রেট ও আওয়ামী আমলের পিএসদের পদোন্নতি দায়িত্বশীল রাজনীতি ও সাংবাদিকতার চর্চা জরুরি: নাহিদ ইসলাম শতভাগ জিপিএ-৫ নিয়ে প্রশ্ন, নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলকে শোকজ নতুন অর্থনৈতিক সমীকরণের বার্তা, ঢাকায় ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা তারেক রহমানের ভারত সফরে ‘রেড লাইন’, কঠিন শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ র‍্যাব বিলুপ্ত, আসছে এসআরবি: নতুন আইনের খসড়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ, আমন্ত্রণপত্র তুলে দিলেন রাষ্ট্রদূত বদলে যাচ্ছে দেশের অর্থবছর, এপ্রিল-মার্চে হবে নতুন হিসাব ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে এবিজি-ডিএনসিসির যৌথ উদ্যোগের প্রত্যাশা

গুলির নির্দেশদাতা ম্যাজিস্ট্রেট ও আওয়ামী আমলের পিএসদের পদোন্নতি

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জনপ্রশাসনে উপসচিব পদে বড় ধরনের পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। একসঙ্গে ২৭৭ জন সিনিয়র সহকারী সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে উপসচিব করা হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার ওপর গুলির নির্দেশদাতা ১১ ম্যাজিস্ট্রেট এবং শেখ হাসিনার সময়ের সচিবদের ৯ একান্ত সচিব রয়েছে। তবে এই পদোন্নতি ঘিরে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ পদোন্নতির তথ্য জানায়। এর মধ্যে ২৬২ জনকে দেশে কর্মরত অবস্থায় এবং বিদেশে বিভিন্ন বাংলাদেশি দূতাবাসে কর্মরত আরও ১৫ কর্মকর্তাকে উপসচিব করা হয়েছে।

পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩১তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিসিএস ব্যাচের অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় দায়িত্বে ছিলেন যাঁরা

পদোন্নতির তালিকায় থাকা ১১ কর্মকর্তার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তাঁরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তালিকায় রয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব রুবায়েত হায়াত শিপলু, নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের উপপরিচালক মুহা. আবু তাহির, গাইবান্ধা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবীর হোসেন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তুষার আহমেদ।

এ ছাড়া বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক নজরুল ইসলাম, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ আশরাফুজ্জামান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এসএম মুনিম লিংকন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মেহেদী হাসান এবং শেখ শামসুল আরেফিনও রয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে এবং আগস্টের শুরুতে ঢাকার রামপুরা, বাড্ডা, ইসিবিসহ বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাবেক সরকারের সচিবদের একান্ত সচিব ছিলেন আরও ৯ কর্মকর্তা

পদোন্নতির তালিকায় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৯ কর্মকর্তার নাম থাকাও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তাঁদের মধ্যে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আহসান হাবিব জিতু বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দুই বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। সেতু বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইমরুল হাসান ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এ কে এম সাইফুল আলম সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমের একান্ত সচিব হিসেবে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দীপায়ন দাস শুভ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব এবং মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) প্রণব কুমার ঘোষও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।

পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের সচিবের একান্ত সচিব কামরুল ইসলাম খান, অর্থসচিবের একান্ত সচিব নাকিব হাসান তরফদার এবং ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. আজিজুর রহমানও।

পদোন্নতি ঘিরে উঠছে প্রশ্ন

একদিকে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, অন্যদিকে সাবেক সরকারের বিভিন্ন সচিবের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের একই তালিকায় অন্তর্ভুক্তি—দুই বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিশেষ করে জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে যখন প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে, তখন তাঁদের পদোন্নতির সিদ্ধান্ত প্রশাসনের ভেতরে কতটা যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়েছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গুলির নির্দেশদাতা ম্যাজিস্ট্রেট ও আওয়ামী আমলের পিএসদের পদোন্নতি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

জনপ্রশাসনে উপসচিব পদে বড় ধরনের পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। একসঙ্গে ২৭৭ জন সিনিয়র সহকারী সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে উপসচিব করা হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার ওপর গুলির নির্দেশদাতা ১১ ম্যাজিস্ট্রেট এবং শেখ হাসিনার সময়ের সচিবদের ৯ একান্ত সচিব রয়েছে। তবে এই পদোন্নতি ঘিরে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ পদোন্নতির তথ্য জানায়। এর মধ্যে ২৬২ জনকে দেশে কর্মরত অবস্থায় এবং বিদেশে বিভিন্ন বাংলাদেশি দূতাবাসে কর্মরত আরও ১৫ কর্মকর্তাকে উপসচিব করা হয়েছে।

পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩১তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিসিএস ব্যাচের অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় দায়িত্বে ছিলেন যাঁরা

পদোন্নতির তালিকায় থাকা ১১ কর্মকর্তার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তাঁরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তালিকায় রয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব রুবায়েত হায়াত শিপলু, নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের উপপরিচালক মুহা. আবু তাহির, গাইবান্ধা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবীর হোসেন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তুষার আহমেদ।

এ ছাড়া বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক নজরুল ইসলাম, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ আশরাফুজ্জামান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এসএম মুনিম লিংকন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মেহেদী হাসান এবং শেখ শামসুল আরেফিনও রয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে এবং আগস্টের শুরুতে ঢাকার রামপুরা, বাড্ডা, ইসিবিসহ বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাবেক সরকারের সচিবদের একান্ত সচিব ছিলেন আরও ৯ কর্মকর্তা

পদোন্নতির তালিকায় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৯ কর্মকর্তার নাম থাকাও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তাঁদের মধ্যে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আহসান হাবিব জিতু বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দুই বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। সেতু বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইমরুল হাসান ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এ কে এম সাইফুল আলম সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমের একান্ত সচিব হিসেবে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দীপায়ন দাস শুভ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব এবং মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) প্রণব কুমার ঘোষও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।

পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের সচিবের একান্ত সচিব কামরুল ইসলাম খান, অর্থসচিবের একান্ত সচিব নাকিব হাসান তরফদার এবং ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. আজিজুর রহমানও।

পদোন্নতি ঘিরে উঠছে প্রশ্ন

একদিকে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, অন্যদিকে সাবেক সরকারের বিভিন্ন সচিবের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের একই তালিকায় অন্তর্ভুক্তি—দুই বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিশেষ করে জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে যখন প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে, তখন তাঁদের পদোন্নতির সিদ্ধান্ত প্রশাসনের ভেতরে কতটা যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়েছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।