তারেক রহমানের ভারত সফরে ‘রেড লাইন’, কঠিন শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সফরের আগে শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ এবং সফরের জন্য ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির বিষয়ে ঢাকার অবস্থানকে কঠিন শর্ত হিসেবে দেখছে ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম।
সোমবার (১৭ আগস্ট) টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে ‘কঠিন শর্ত’ হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি ঢাকার কাছে সফরের ক্ষেত্রে একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখায় পরিণত হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ঢাকা নয়াদিল্লির কাছে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক ব্যক্তির প্রত্যর্পরণে দ্রুত পদক্ষেপ এবং তারেক রহমানের সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।
ভারতীয় সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং দ্বিপক্ষীয় সফর—দুই ক্ষেত্রেই তারেক রহমানকে দেওয়া ভারতের আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে। তবে সফরের তারিখ নির্ধারণ এখন ঢাকার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ২১ আগস্টকে সম্ভাব্য সফরের তারিখ হিসেবে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সফরের আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। রোববার ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে দেওয়া বক্তব্যের কারণে সফর প্রস্তুতির পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, দুই দেশের কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে সফরের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছিলেন। কিন্তু নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়েছে।
ঢাকার পক্ষ থেকে ভারতকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদেরও প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট নয়। ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি দেশটির প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোবে। ফলে ঢাকার রাজনৈতিক প্রত্যাশার সঙ্গে নয়াদিল্লির আইনি অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য থেকেই যাচ্ছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি এখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ঢাকার অনেকেই এটিকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে দিল্লির নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, বাংলাদেশকে এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও যুক্তিসংগত জবাব দেওয়া প্রয়োজন।
এরই মধ্যে ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। ভারত জানিয়েছে, ওই সংবাদ সম্মেলনে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং শেখ হাসিনার বক্তব্যকে তারা সমর্থনও করেনি।
সেই বক্তব্যে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি বাতিল হয়নি। তবে সফরের আগে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, কূটনৈতিক পরিবেশ এবং দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নে দ্রুত সমঝোতা না হলে নির্ধারিত সময়ে সফরটি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস





















