বছরে ২,২০০ কোটি টাকার কিস্তি, থার্ড টার্মিনাল ঘিরে উদ্বেগ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৭:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল এখনো বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়নি। এর মধ্যেই প্রকল্পে নেওয়া জাপানি ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় ঘনিয়ে এসেছে। চলতি বছরের মধ্যেই প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে, যা টার্মিনালটির সম্ভাব্য এক বছরের আয়ের সমপরিমাণ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর, বিজয় দিবসে থার্ড টার্মিনাল বাণিজ্যিকভাবে চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিচালনা-সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত করতে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং এক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হতে পারে।
বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে সেই সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপানের কাছ থেকে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্বও জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে দেওয়ার কথা ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই চুক্তি আর এগোয়নি। বর্তমান সরকার আবারও সেই প্রক্রিয়া চালু করেছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, থার্ড টার্মিনাল চালুই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পর্যায়ক্রমে বাকি কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হবে।
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থগিত হয়ে যাওয়া পরিচালনা চুক্তি পুনরায় কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলেও জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টার্মিনাল দ্রুত বাণিজ্যিকভাবে চালু না হলে ঋণের সুদ ও কিস্তির চাপ আরও বাড়বে। এতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে বিলম্ব হবে এবং রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।
সিভিল অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান বলেন, টার্মিনাল চালু না হওয়ায় ঋণের সুদ ও আসলের বোঝা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিদেশি এয়ারলাইনসের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বিলম্বিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি কার্যকর হলে থার্ড টার্মিনালের বন্দর উন্নয়ন ফি, লাউঞ্জ পরিচালনা, কার্গো হ্যান্ডলিং এবং গাড়ি পার্কিং থেকে অর্জিত রাজস্ব সংগ্রহের দায়িত্ব তাদের হাতে থাকবে। চুক্তির প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, এসব আয় থেকে ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি কনসোর্টিয়াম এবং বাকি ২৭ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ।



















