এত লোডশেডিং কেন? গ্যাস-কয়লা সংকটেই বাড়ছে বিদ্যুতের ভোগান্তি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩০:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
জুনের শেষভাগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করে। কয়েকদিন গভীর রাতেও বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে।
প্রশ্ন উঠেছে, পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো? আর সামনে জুলাই-আগস্টে যাতে একই সংকট না হয়, সে প্রস্তুতি কতটা রয়েছে?
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য বলছে, গ্যাস ও তরল জ্বালানির সরবরাহ সংকট, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়া, কয়েকটি বড় কেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি এবং আর্থিক চাপ—এই চার কারণ একসঙ্গে কাজ করায় জুনের শেষ দিকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে।
এরই মধ্যে ২৮ জুন টাঙ্গাইল, ঝালকাঠি ও ঢাকার দোহারে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ এবং বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিও পালিত হয়।
মাসের শেষ ২০ দিনেই ঘাটতির ৯২ শতাংশ
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে মোট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১০ হাজার ৭৭৬ দশমিক ২৭৫ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১০ হাজার ২৪৪ দশমিক ৮৪৮ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা। ফলে মোট ৫৩১ দশমিক ৪২৭ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
পরিসংখ্যান বলছে, মাসের প্রথম ১০ দিনে সরবরাহ ঘাটতি ছিল ৪৩ দশমিক ৩৯৬ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা। ১১ থেকে ২০ জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১৭ দশমিক ৫৩৫ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টায়। আর শেষ ১০ দিনে ঘাটতি আরও বেড়ে হয় ২৭০ দশমিক ৪৯৬ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা।
অর্থাৎ জুন মাসের মোট বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রায় ৯২ শতাংশই তৈরি হয়েছে শেষ ২০ দিনে।
সংকটের কারণ কী?
পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে একাধিক সীমাবদ্ধতা একসঙ্গে কাজ করেছে।
তার ভাষায়, গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়া, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং বিভিন্ন কেন্দ্রের কারিগরি সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আর্থিক চাপও একটি বড় কারণ। বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া পরিশোধের চাপ থাকলেও তা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র বন্ধ থাকায় বেড়েছে চাপ
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, জুনের শেষ দিকে কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে চলে যায়। চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। একই সময়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটও পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যায়।
এর পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে যায়। জ্বালানির মূল্য পরিশোধে বিলম্ব এবং সরবরাহ সংকটের প্রভাবও উৎপাদনে পড়ে।
তিনি বলেন, “একটি কারণে নয়, একাধিক সমস্যা একসঙ্গে তৈরি হওয়ায় বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়েছিল।”
পরিস্থিতির উন্নতির দাবি
পিডিবির দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। বন্ধ থাকা বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আবার উৎপাদনে ফিরেছে এবং গ্যাস সরবরাহও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জহুরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তিনি আরও বলেন, পেট্রোবাংলা প্রতিদিন এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে গ্যাসের প্রাপ্যতা এবং জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক বণ্টনের ওপর।






















