ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৭০ কোটি টাকার সমুদ্রমুখী বাড়িতে আমির-গৌরীর বিয়ে ভ্যাপসা গরমে অতিরিক্ত ঘাম, বাড়ছে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি? জানালেন বিশেষজ্ঞ মোদিকে হত্যার হুমকি, তদন্তে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ শচীনের রেকর্ড ভেঙে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার বৈভব হাসনাতদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ কি ‘প্রোপাগান্ডা’? বিতর্কের কেন্দ্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়, নিজের লোক হলেও ছাড় নয় জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা নয়, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেষ ষোলোর লড়াই, দেখে নিন সময়সূচি মুক্ত বুদ্ধিচর্চাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী

রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতার ইতিহাসেই জন্ম আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সির

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৪:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লিওনেল মেসি, দিয়েগো মারাদোনা কিংবা মারিও কেম্পেস—বিশ্বকাপজয়ী এই তিন কিংবদন্তির পরিচিত প্রতীকই আর্জেন্টিনার নীল-সাদা ডোরাকাটা জার্সি। কিন্তু বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই জার্সির রঙের পেছনে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রাম, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের এক দীর্ঘ অধ্যায়।

ইতিহাসবিদদের মতে, নীল রঙের গুরুত্ব শুরু হয় ১০৫৪ সালে খ্রিস্টান চার্চ বিভক্ত হওয়ার পর। সে সময় ইউরোপে নীল রঙ ছিল অত্যন্ত বিরল। আফগানিস্তান থেকে আনা লাপিস লাজুলি পাথর দিয়ে তৈরি হতো এই রঙ। বাইজেন্টাইন অর্থোডক্স চার্চ নীলকে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে এবং ভার্জিন মেরির পোশাকে নীল-সাদা রঙ ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়।

উনিশ শতকের শুরুতে স্পেনের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ে নামে আর্জেন্টিনা। স্প্যানিশ বাহিনীর লাল-সাদা-সোনালি পতাকার বিপরীতে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ১৮১২ সালে বিপ্লবী নেতা ম্যানুয়েল বেলগ্রানো নীল-সাদা পতাকা প্রবর্তন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৮১৮ সালে এতে যুক্ত হয় সূর্যের প্রতীক, যা ইনকা সভ্যতার সূর্যদেবের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

অনেকের মতে, নীল-সাদা রঙ আকাশ ও মেঘের প্রতীক। আবার আরেকটি জনপ্রিয় মত হলো, ভার্জিন মেরির নীল-সাদা শাল থেকেই এই রঙের অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছিল।

তবে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জার্সি ডোরাকাটা ছিল না। ১৯০১ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে তারা সম্পূর্ণ আকাশি রঙের জার্সি পরে মাঠে নামে। পরে ১৯০৮ সালে ব্রাজিল সফরে প্রথমবারের মতো নীল-সাদা ডোরাকাটা জার্সি ব্যবহার করা হয়। এরপর থেকেই সেটিই হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনার পরিচয়ের অংশ।

আর্জেন্টিনার গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সির জন্মও এক ব্যতিক্রমী ঘটনার মধ্য দিয়ে। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বৃষ্টিতে দলের অ্যাওয়ে জার্সি ভারী হয়ে যাওয়ায় নতুন জার্সির প্রয়োজন পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যে বাজার থেকে সাধারণ নীল রঙের জার্সি কিনে তাতে হাতে জাতীয় দলের লোগো ও নম্বর বসানো হয়।

কিংবদন্তি অনুযায়ী, দুটি জার্সির মধ্যে একটি নিজেই বেছে নিয়েছিলেন অধিনায়ক দিয়েগো মারাদোনা। সেই জার্সি পরেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং শতাব্দীর সেরা গোলের জন্ম দেন তিনি। পরে ওই বিশ্বকাপও জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।

এরপর ২০২২ সালে একই নীল-সাদা জার্সি গায়ে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা। ফলে এই জার্সি শুধু একটি খেলার পোশাক নয়, বরং দেশটির স্বাধীনতা, ঐতিহ্য ও ফুটবল গৌরবের প্রতীক হিসেবেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতার ইতিহাসেই জন্ম আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সির

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৪:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

লিওনেল মেসি, দিয়েগো মারাদোনা কিংবা মারিও কেম্পেস—বিশ্বকাপজয়ী এই তিন কিংবদন্তির পরিচিত প্রতীকই আর্জেন্টিনার নীল-সাদা ডোরাকাটা জার্সি। কিন্তু বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই জার্সির রঙের পেছনে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রাম, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের এক দীর্ঘ অধ্যায়।

ইতিহাসবিদদের মতে, নীল রঙের গুরুত্ব শুরু হয় ১০৫৪ সালে খ্রিস্টান চার্চ বিভক্ত হওয়ার পর। সে সময় ইউরোপে নীল রঙ ছিল অত্যন্ত বিরল। আফগানিস্তান থেকে আনা লাপিস লাজুলি পাথর দিয়ে তৈরি হতো এই রঙ। বাইজেন্টাইন অর্থোডক্স চার্চ নীলকে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে এবং ভার্জিন মেরির পোশাকে নীল-সাদা রঙ ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়।

উনিশ শতকের শুরুতে স্পেনের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ে নামে আর্জেন্টিনা। স্প্যানিশ বাহিনীর লাল-সাদা-সোনালি পতাকার বিপরীতে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ১৮১২ সালে বিপ্লবী নেতা ম্যানুয়েল বেলগ্রানো নীল-সাদা পতাকা প্রবর্তন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৮১৮ সালে এতে যুক্ত হয় সূর্যের প্রতীক, যা ইনকা সভ্যতার সূর্যদেবের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

অনেকের মতে, নীল-সাদা রঙ আকাশ ও মেঘের প্রতীক। আবার আরেকটি জনপ্রিয় মত হলো, ভার্জিন মেরির নীল-সাদা শাল থেকেই এই রঙের অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছিল।

তবে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জার্সি ডোরাকাটা ছিল না। ১৯০১ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে তারা সম্পূর্ণ আকাশি রঙের জার্সি পরে মাঠে নামে। পরে ১৯০৮ সালে ব্রাজিল সফরে প্রথমবারের মতো নীল-সাদা ডোরাকাটা জার্সি ব্যবহার করা হয়। এরপর থেকেই সেটিই হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনার পরিচয়ের অংশ।

আর্জেন্টিনার গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সির জন্মও এক ব্যতিক্রমী ঘটনার মধ্য দিয়ে। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বৃষ্টিতে দলের অ্যাওয়ে জার্সি ভারী হয়ে যাওয়ায় নতুন জার্সির প্রয়োজন পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যে বাজার থেকে সাধারণ নীল রঙের জার্সি কিনে তাতে হাতে জাতীয় দলের লোগো ও নম্বর বসানো হয়।

কিংবদন্তি অনুযায়ী, দুটি জার্সির মধ্যে একটি নিজেই বেছে নিয়েছিলেন অধিনায়ক দিয়েগো মারাদোনা। সেই জার্সি পরেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং শতাব্দীর সেরা গোলের জন্ম দেন তিনি। পরে ওই বিশ্বকাপও জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।

এরপর ২০২২ সালে একই নীল-সাদা জার্সি গায়ে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা। ফলে এই জার্সি শুধু একটি খেলার পোশাক নয়, বরং দেশটির স্বাধীনতা, ঐতিহ্য ও ফুটবল গৌরবের প্রতীক হিসেবেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত।